ভূমি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, শতকরা ৯০ ভাগ বিরোধের উৎস ভূমি। অটোমেটেড ভূমি সেবা সিস্টেম চালু হলে জনভোগান্তি কমে যাবে। ভূমি বিষয়ে ডিজিটাল হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে- এটা বলা যাবে না। মেশিনের পেছনে যে মানুষটা কাজ করে, তিনি যদি ভুল করেন তাহলে জটিলতা কমবে কীভাবে? তাই সব নাগরিককে সচেতন ও নজরদারি রাখতে হবে। যারা ভাল কাজ করবে তাদের সাপোর্ট দেবেন, আর যারা করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। এজন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপি আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে, এটা ভালো কাজে লাগাতে হবে। ফেনী একটি গৌরব জনক জনপদ, তাই এই সিস্টেম চালু করতে ফেনীকে পাইলটিং প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সিস্টেম চালু হলে ফেনী আরো আলোকিত হবে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে ‘অটোমেটেড ভূমি সেবা সিস্টেমে তথ্য সন্নিবেশ ও সংশোধন সংক্রান্ত কর্মশালা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিপি, বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। জেলা প্রশাসন, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প, ভূমি মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালায় আলোচক ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, যুগ্ম সচিব মো. পারভেজ হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।
ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নতুন আরো পাঁচ লাখ পরিবার যুক্ত হবে। এই কর্মসূচিতে ৫০ লাখ পরিবারকে পাঁচ মাস ধরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এবার এটি সম্প্রসারিত করে ৫৫ লাখ পরিবার ও ৬ মাস করা হয়েছে। ১৭ আগস্ট খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ এই ৬ মাস চাল দেওয়া হবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাধারণত আমন ফসল আসে, সে জন্য মাঝে এ দুই মাস বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ কসময় রেশনের চাল রান্না করলে অনেক গন্ধ বের হতো। আগে চালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধপত্র দেওয়া হতো, এখন সেদিন চলে গেছে। বর্তমানে চালের মান অনেক ভালো। যে চাল বাজারে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়, সেই চালই ওএমএসে ৩০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। সে একই চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেও ১৫ টাকায় পাবে মানুষ। বর্তমানে আমাদের ২২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি রয়েছে চাল। আমন ফসল ভালো হলে আমদানিও খুব বেশি করতে হবে না।
ফেনীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে ভূমি উপদেষ্টা বলেন, এখানকার বাঁধগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে। যাঁরা হতদরিদ্র, তাঁরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আসবে।
কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফাহমিদা হক, নোয়াখালী অঞ্চলের ভূমি বিষয়ক সার্চ অফিসার সারওয়ার উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব তালুকদার, জিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব ও সাংবাদিক আবু তাহের প্রমুখ। জেলার ভূমি বিভাগ, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক,সামাজিক, ছাত্র ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।




