শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কেটে গেছে এক বছর। এই সময়ে আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা ও ঘনিষ্ঠ সহচর দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কলকাতার নিউ টাউনে আশ্রয় নিয়ে তারা ভিন্নধর্মী জীবনযাপন করছেন। কেউ শরীরচর্চায় মনোযোগী, কেউ আবার দিল্লির ক্লিনিকে গিয়ে করিয়েছেন হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পলাতক এক সাবেক এমপি এখন প্রতিদিন জিমে যাচ্ছেন রুমমেটের সঙ্গে। দুজনের একজন ভারোত্তোলন করেন, আরেকজন পিলাটেস ক্লাসে ভর্তি হয়েছেন। তারা ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকেন। ভাড়া মাসে ৩০ হাজার টাকা। রান্না না জানলেও প্রয়োজনে ভিডিও কলে ঢাকায় থাকা স্ত্রীদের সাহায্য নিয়ে নিজেরাই রান্না করেন।
একজন সাবেক এমপি আবার দিল্লির একটি চুল প্রতিস্থাপন ক্লিনিকের শরণাপন্ন হয়েছেন। তার ভাষায়, “চুল উঠে যাচ্ছিল। এখন নতুন করে মাথায় চুল উঠছে দেখে মনে হচ্ছে, অন্তত কিছু একটা তো ভালো হলো।”
এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে কলকাতার নিক্কো পার্কে দেখা যায়। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে—কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন অথচ কোনো ইমিগ্রেশন রেকর্ডে তার নাম নেই!
দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, নিউ টাউনের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট এখন পলাতক আওয়ামী নেতাদের ভরসাস্থল। কেউ শরীরচর্চা, কেউ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আবার কেউ লেখালেখি বা ভার্চুয়াল মিটিংয়ে সময় কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকেই নিজেদের অবস্থান গোপন রাখছেন।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে এ ধরনের জীবনযাপন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ এই সময়কে ব্যক্তিগত পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এখনও দেশে ফেরার আশায় দিন গুনছেন।




