দুইদিনের সফরে গতকাল বাংলাদেশে আসেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তার এ সফরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। ইসহাক দারের বাংলাদেশে আসা এবং চুক্তি করাকে ‘ঘনিষ্ঠতা’ হিসেবে দেখছে ভারত। এই সম্পর্কটি ভারত বেশ উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে বলেও জানিয়েছে দেশটির একটি গোয়েন্দা সূত্র।
সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮-কে গোয়েন্দা সূত্রটি রবিবার (২৪ আগস্ট) বলেছেন, ভারত দুই দেশের ঘনিষ্ঠতাকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন হওয়ার পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান তাদের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে। যা ভারতের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থাকে অবাক করছে।
এদিকে রবিবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। সেগুলো হলো— দুই দেশের অফিসিয়াল ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি; দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন; সংস্কৃতি বিনিময়; দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা; দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা।
এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু আগে দুইবার সমাধান হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যুর বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মোশাররফের সফরে দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে সমাধান হয়। তিনি গোটা পাকিস্তান জাতির পক্ষ থেকে গোটা বাংলাদেশ জাতির উদ্দেশ্যে কথাটা বলেছিলেন। আমি মনে করি, পরিবারের মধ্যে, দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো কিছুর একবার সমাধান হলে, সেটা হয়ে গেছে। ইসলাম বলেছে, হৃদয় পরিষ্কার করতে। আপনারা আপনাদের হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দুই দেশের মানুষের জন্য আরও ভালো কিছু করার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এটাতেই আমাদের ঐকমত্য এবং আমরা সেটাই করছি।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা প্রতিরক্ষায় একযোগে কাজ করাসহ পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু। তিনি আরও বলেন, আপনাদের সঙ্গে আমাদের ঐকমত্য আছে, আমাদের মতামতে কোনো ভিন্নতা ছিল না। যা খুবই ভালো বিষয়।




