জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বর্তমান সংবিধান কার্যকর নয়। তিনি বলেন, “যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে হাসিনা দিনের ভোট রাতে করেছে, সেই সংবিধান দিয়ে নির্বাচন হতে পারে না। প্রধান উপদেষ্টা চাইলে নিয়ম পরিবর্তন করে এটাকে আইনগত বৈধতা দিয়ে আগামী মাসেই নির্বাচন দেন, তাতেও আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। তবে এজন্য প্রয়োজন একটি নতুন সংবিধান।”
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘উঠানে রাজনীতি’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। “আম্পায়ার কোনো পক্ষপাত করবে না—এটি লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা শুধু কথায় বিশ্বাস করি না। নিয়মগুলো লিখিত আকারে থাকতে হবে এবং আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে, যাতে পরবর্তীতে কেউ ভঙ্গ করলে তাকে জবাবদিহি করতে হয়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৬ বছরে রাতের ভোট, দিনের ভোট এমনকি কবর থেকেও ভোট দেওয়ার নজির দেখা গেছে। এমনকি রেফারিরাও আওয়ামী লীগের পক্ষে গোল দিয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে নিয়ম পরিবর্তন অপরিহার্য।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা টাকা খরচ করে এমপি হন, তারা পরে অবশ্যই জনগণের টাকা লুট করেন। ভোট কেনা মানে দুর্নীতির টাকা খরচ করা। জনগণ যদি এক হাজার টাকা নেয়, তার বিনিময়ে কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নষ্ট হয়। ভোট কেনা প্রার্থীরা পরে ঘুষ, টেন্ডার আর চাঁদাবাজির মাধ্যমে বহুগুণ টাকা তুলে নেন।”
তিনি আরও বলেন, নেতা জনগণের প্রতিফলন। জনগণ সৎ হলে নেতা সৎ হবেন, জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত হলে নেতা-ও দুর্নীতিগ্রস্ত হবেন। “সংসদ সদস্যের কাজ আইন প্রণয়ন করা। রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণ করা এমপিদের কাজ নয়। যারা এসব প্রতিশ্রুতি দেন, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেন।”
নতুন প্রজন্মের সততার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই জেনারেশন দুর্নীতি করে না, ঘুষ খায় না, অন্যায়কে অন্যায় বলে। ভবিষ্যতে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।”
নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে হাসনাত বলেন, “আমি দেবিদ্বারেই বড় হয়েছি। এখনো ভাড়া বাসায় থাকি। দুর্নীতি করে টাকা আনার প্রশ্নই আসে না। জনগণের কাছ থেকে টাকা নেব না, দেবও না। আমি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হই, জনগণ আমাকে প্রত্যাখ্যান করবেন।”
দেবিদ্বার উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী জামাল মোহাম্মদ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, উপজেলা সার্চ কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য আমির হোসেন।




