ব্রিটিশ রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা দেশজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। কর–সংক্রান্ত জটিলতায় উপপ্রধানমন্ত্রী এঞ্জেলা রেইনারের পদত্যাগ লেবার সরকারকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করে নতুন নেতৃত্ব দল গঠনের চেষ্টা করেছেন। তবে বিরোধীদের সমালোচনা আর রিফর্ম ইউকের উত্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রেইনারকে ঘিরে অভিযোগ, একটি বাড়ি বিক্রির সময় তিনি প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড স্টাম্প ডিউটি কম পরিশোধ করেছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আইনভঙ্গ করেননি, তবে যথাযথ আইনগত পরামর্শ না নেওয়ায় ‘নৈতিক অসদাচারণ’-এর দায় তাঁর ওপর চাপানো হয়েছে। দলের ভেতরে রেইনার ছিলেন বামপন্থী ঘরানার জনপ্রিয় মুখ। তাঁর পদত্যাগ তাই শুধু সরকারের জন্য বিব্রতকর নয়, লেবারের ভেতরেও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্টারমার দ্রুত মন্ত্রিসভা রদবদল করেন। নতুন কেবিনেটে ডেভিড ল্যামিকে উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচার সচিব করা হয়েছে। ইয়ভেট কুপার এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আর শাবানা মাহমূদ পেয়েছেন হোম সেক্রেটারির দায়িত্ব। প্যাট ম্যাকফ্যাডেনকে দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে একীভূত মন্ত্রণালয়। লেবার এভাবে সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নতুন কেবিনেটে সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নারীর নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এখন রয়েছেন নারী নেতারা। লেবার একে নিজেদের আধুনিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তবে বিরোধীরা একে নিছক প্রদর্শনী বলেই আখ্যায়িত করেছে। কনজারভেটিভ নেতা ক্যেমি বাডেনক বলেছেন, “স্টারমার কেবল ডুবে যাওয়া জাহাজের ডেকচেয়ার বদলাচ্ছেন।”
এরই মধ্যে রিফর্ম ইউকের উত্থান লেবারকে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে দলটি কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফারাজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে মাত্র দুই সপ্তাহে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের নৌকা রুট বন্ধ করবেন। এমনকি তিনি দাবি করেছেন, কোনো আদালতই তাঁদের বহিষ্কার কার্যক্রম থামাতে পারবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রেইনারের পদত্যাগ লেবার সরকারের জন্য একটি নৈতিক ধাক্কা হলেও স্টারমারের দ্রুত পদক্ষেপ তাঁর নেতৃত্বের সংকল্পকে স্পষ্ট করেছে। তবে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা আর রিফর্ম ইউকের উত্থান মিলে তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই নতুন সমীকরণ ব্রিটিশ রাজনীতির গতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই এখন আলোচনায় দেশজুড়ে।




