চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘নাদিয়াস মেকওভার’ নামে একটি বিউটি পার্লারের বাথরুম থেকে প্রিয়াঙ্কা দত্ত (৩৫) নামে এক বিউটিশিয়ানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি শাওয়ারের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছিল। তবে পা মেঝের সঙ্গে প্রায় লাগানো ছিল।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটি ডিপ্রেশনের কারণে আত্মহত্যা বললেও পরিবার মনে করছে, এটি পরিকল্পিত হত্যা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা দত্ত রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের সমীর দে ও অঞ্জলী দে দম্পতির কন্যা। তিনি নগরের আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা, স্বামী সঞ্জিত দত্ত বাঁশখালীর। কর্মজীবনে তিনি ‘নাদিয়াস মেকওভার’ পার্লারে ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিবার জানায়, প্রিয়াঙ্কার জীবন ছিল তুলনামূলকভাবে সুখী। কর্মস্থল, স্বামী-সন্তান এবং পারিবারিক বন্ধন—সবই নিয়মিত ও শান্তিপূর্ণ ছিল। মৃতের মা অঞ্জলী দে বলেন, “আমার মেয়ে খুবই ভালো ছিল। সকালেও হাসিমুখে অফিসে গিয়েছে। এমন কিছুই ঘটেনি যে, সে আত্মহত্যা করবে। আমি মনে করি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।”
প্রিয়াঙ্কার ছেলে সজীব দত্তও একই কথা বললেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “মাকে ঘটনাস্থলে যেভাবে দেখেছি, তা আত্মহত্যার মতো মনে হয়নি। বাথরুমের ঝর্ণার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া সম্ভব নয়। ঝর্ণা কী মানুষের ভার নিতে পারবে?”
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিগত ডায়েরি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র। ডায়েরির পাতায় প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন—
“এতো দায়িত্ব কেন আমার? আমি শান্তি চাই। জাস্ট রিল্যাক্স। আচ্ছা আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?”
তিনি ছেলেকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “বাবা আমাকে ক্ষমা করিস। আমি তোর যোগ্য মা হতে পারলাম না। তবে মনা তুমি, মাম্মার যোগ্য সন্তান। আমার জায়গাটা তোমাকে দিয়ে গেলাম। ড্রিংকস করিও না, ছেলেটাকে তুমি মানুষ করবে।”
ডায়েরির পাতায় আরও রয়েছে প্রিয়াঙ্কার নীল শাড়ি নিয়ে আক্ষেপ— “নীল শাড়িটা তো পড়লাম না, একটু পড়িয়ে দিও।” প্রিয়াঙ্কা দুর্গাপূজায় পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য শাড়িটি কিনেছিলেন। কিন্তু সেই শখ পূরণের আগেই জীবন শেষ হলো।
প্রিয়াঙ্কা পার্লারে সহকর্মীদের চোখে দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী ছিলেন। তবে কিছুদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। পরিবার অভিযোগ করছে, পার্লারের একজন সহকর্মীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটেছিল।
পার্লারের মালিক প্রতিবেদককে ‘ব্যস্ততা’ দেখিয়ে এড়িয়ে যান। পরে মালিকের স্বামীকে বক্তব্য নিতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। ফলে পার্লারের পক্ষ থেকে ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, “বাথরুমের দরজা ভাঙা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়। শাওয়ারের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো ছিল। ডায়েরির লেখা দেখে আমরা ধারণা করছি, এটি মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশনের কারণে আত্মহত্যা।”





