দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের কাজে ফিরতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যাবশ্যক পরিষেবা। এ সেবায় বাধা দেওয়া বা বিঘ্ন ঘটানো অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া পূরণে প্রচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সরকার সংবেদনশীল। পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজে নিয়োজিত এবং গণছুটির নামে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলো। নইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলন এসে দাবি আদায়ে রোববার থেকে গণছুটিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার বিকালে তাদের আন্দোলনের প্রসঙ্গটি উঠে আসে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমস্যা সমাধানে দুটি কমিটি করা হয়েছে। বদলিকৃতদের আগের জায়গায় ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের আগের পদে ফেরানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে আন্দোলনে দেশবিরোধী শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে। কর্মীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। কর্মবিরতির কোনো প্রয়োজন দেখছে না অন্তর্বর্তী সরকার। আন্দোলনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহকসেবা ব্যহত হলে সরকার কঠিন ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
এদিকে রনজন নামে এক আন্দোলনকারী বলছেন, আমাদের ৭০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩০ হাজারের মতো কর্মকর্তা ছুটির ফরম জমা দিয়েছে। আজ ছুটির ফরম জমা দিয়ে অনেকে চলে গেছে। অনেকে কাজ করে নাই। মূল ছুটি আগামীকাল থেকে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় থেকে আমরা আন্দোলন করছি। এ সরকারের সময়ও আমরা আন্দোলন করছি। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই আমাদের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে। এখানে সরকারবিরোধী কিছু নেই। শত শত মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে; মামলা করা হয়েছে; রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গত বছর অক্টোবরে একটা কমিটি হয়েছিল। সেই কমিটি আলোর মুখ দেখে নাই। ডিসি সম্মেলনে অনেক জেলা প্রশাসক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সমিতি ও আরইবিকে একীভূত করার জন্য। পরে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ও আরইবি এটা বাতিল করে দেয়। একটা রিপোর্টের সুপারিশ এসেছিল। কিন্তু আরইবি সেটা বস্তবায়ন করে নাই। কোনো উপায় না পেয়ে আমাদের বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি দিতে হয়েছে। প্রেস সচিব মহোদয় বক্তব্য দিয়েছেন। এটা আরইবি বা বিদ্যুৎ উপদেষ্টা থেকে দেওয়া লিখিত বক্তব্য। জিনিসটা খুবই দুঃখজনক।”
- আন্দোলনের চার দফা
আগের দিন শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— ১. আরইবি-পিবিএস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো কোম্পানি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে এবং সব চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত (মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার, লাইন শ্রমিক ও পৌষ্য বিলিং সহকারী) কর্মীদের নিয়মিতকরণ, মামলা প্রত্যাহার করে চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল, সব সংযুক্ত ও সাময়িক বরখাস্ত করা এবং অন্যায়ভাবে বদলি করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের গঠিত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করে বাস্তবায়নের করতে হবে। ২. গত ১৭ অগাস্ট থেকে হয়রানিমূলকভাবে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত করা ও সংযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত আদেশ বাতিল করে আগের কর্মস্থলে পদায়ন করতে হবে। ৩. জরুরি সেবায় নিয়োজিত লাইনক্রুদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিকালীন যোগদান করতে না পারা পাঁচজন লাইনক্রুকে আগের কর্মস্থলে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।




