নিউ ইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা ও হুঁশিয়ারি ছুড়ে দেন ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি। তিনি বলেন, অভিবাসন সংকট ও সবুজ জ্বালানি প্রকল্পের কারণে ইউরোপ ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আপনাদের দেশ নরকে যাচ্ছে।”
অভিবাসন ইস্যুতে কড়া আক্রমণ
বক্তৃতার বড় অংশজুড়েই ছিল অভিবাসন নিয়ে তার ক্ষোভ। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা ইউরোপকে অনুসরণ করা উচিত। অন্যথায় মারাত্মক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ইউরোপের দেশগুলিকে গ্রাস করবে। ট্রাম্প বলেন, “উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি একটি ব্যর্থ পরীক্ষা। এটি ইউরোপকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।”
ট্রাম্প শুধু অভিবাসন নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্যোগকেও আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতারণা। এই গ্রিন স্ক্যামে অর্থ ঢাললে পশ্চিম ইউরোপের মৃত্যু অনিবার্য।”
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ অভিহিত
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প জাতিসংঘকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি ক্ষমতায় ফেরার পর সাতটি যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিলেও জাতিসংঘ সহযোগিতা করেনি। জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তারা শুধু শক্তিশালী ভাষার চিঠি লেখে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয় না। ফাঁকা কথায় যুদ্ধ থামে না, কাজই যুদ্ধ থামায়।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও মন্তব্য করেন। যদিও তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথম দিনেই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়নি। বরং এবার তিনি রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারত, চীন ও ন্যাটো মিত্রদের দোষারোপ করেন। তার ভাষায়, “তারা নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে অর্থ জোগাচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, রাশিয়া যদি সমঝোতায় না আসে তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপ করবে এবং ইউরোপকে একই পথে হাঁটতে বাধ্য করা হবে।
গাজা প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে ট্রাম্প কেবল ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির দাবি তোলেন। তিনি বলেন, “আমরা ২০ জনকেই চাই। কেবল দুই বা চারজন নয়।” পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে তিনি হামাসের “বর্বরতার পুরস্কার” বলে অভিহিত করেন।




