মৌলভীবাজারের শস্যভান্ডারখ্যাত কাউয়াদীঘি হাওর অধ্যুষিত রাজনগরে এবারের আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এ উপজেলার কৃষকরা এবার নতুন আশায় বুক বেঁধে মাঠে নেমেছেন—আর সেই আশা যেন সত্যি হয়েছে।
রাজনগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৮৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে কাউয়াদীঘি হাওরে ৫ হাজার হেক্টর এবং উজানে ৬ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন ধান, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৩৯ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় পাহাড়ি ঢল ও ভারতীয় উৎস থেকে নেমে আসা পানিতে রাজনগরের বিশাল আবাদি জমি তলিয়ে গিয়েছিল। তখন প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। ওই দুই বছরে কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়া ও অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় রাজনগরের প্রায় ২৯ হাজার কৃষক ও কৃষাণী মাঠে নেমেছেন নতুন আশায়। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে সরকার কাশিমপুরে ১২ শ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন আটটি পাম্পসহ একটি পাম্প হাউস নির্মাণ করে। অতীতে বিদ্যুৎ–সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সময়মতো পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে ফসল নষ্ট হলেও এবার তা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হয়, ফলে ফসল রক্ষা পেয়েছে।
কেওলা গ্রামের কৃষক লনি মিয়া বলেন, “প্রতি বছরই আশঙ্কা থাকে—শেষ মুহূর্তে বন্যায় ফসল ডুবে যাবে। কিন্তু এবার সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় আমরা ভালো ফলন পেয়েছি।” একই কথা জানিয়েছেন কাশিমপুরের মোশাহিদ মিয়া, আব্দুল্লাহপুরের গনি মিয়া ও ভানুর মহলের সুজন মিয়াও।
রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল আমীন বলেন, “অনুকূল আবহাওয়া, পানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ এবং কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে এবার আমন ধানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে। এতে রাজনগরের কৃষকের মুখে সত্যিকারের হাসি ফুটেছে।”





