ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডস অঞ্চলের একটি হাসপাতালে ৩৪ ঘণ্টা অ্যান্টিবায়োটিক না পাওয়ার কারণে এক প্রতিবন্ধী বাবার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই মৃত্যুটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য ছিল।
নটিংহ্যামশায়ারের বাসেটল’ হাসপাতালের (Bassetlaw Hospital) ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বয়স ছিল ৪৫ বছর। তিনি দুই সন্তানের বাবা এবং বিরল ও দুরারোগ্য স্নায়বিক রোগ আলেকজান্ডার ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। রোগটির কারণে তাঁর চলাফেরা, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং যোগাযোগে গুরুতর সমস্যা ছিল এবং তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পরিচর্যার প্রয়োজন হতো।
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে প্রস্রাবের সংক্রমণে আক্রান্ত হলে তাঁর জিপি (GP) তাঁকে দ্রুত শিরায় (IV) অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠান। কারণ সংক্রমণটি মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ করছিল না। তবে পার্লামেন্টারি অ্যান্ড হেলথ সার্ভিস ওম্বাডসম্যান (PHSO)-এর তদন্তে দেখা যায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ৩৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তাঁকে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি, এমনকি যে ওষুধ দেওয়া হয় তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক মাত্রায়।
এই বিলম্বের ফলে তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং এক সপ্তাহ পর তাঁর মৃত্যু হয়। তদন্তে আরও বলা হয়, রোগীর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি নিজে চিকিৎসার ঘাটতির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারেননি। তাঁর মা বারবার চিকিৎসকদের সতর্ক করলেও তাঁকে জানানো হয়নি যে তাঁর ছেলেকে আদৌ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি।
ওম্বাডসম্যানের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অ্যাম্বুলেন্স কর্মী ও কেয়ার হোমের স্টাফরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে IV অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসকরা তা অনুসরণ করেননি। মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেটি হাসপাতালের কাছে ছিল না।
ঘটনার পর PHSO-এর সুপারিশে ডনকাস্টার ও বাসেটল’ টিচিং হাসপাতাল এনএইচএস ট্রাস্ট নিহতের মায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নিহতের ৭০ বছর বয়সী মা বলেন, “আমি জানতাম আমার ছেলের জন্য মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। কিন্তু ডাক্তাররা আমাকে গুরুত্বই দেননি। তারা ভাবছিল, তারাই ডাক্তার আর আমি শুধু একজন মা।”
হাসপাতালের চিফ নার্স কারেন জেসপ বলেন, “এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। রোগীর পরিবার যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রোগীর কথা শোনা এবং সময়মতো চিকিৎসা দেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।





