পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার ভাঙচুর করেছেন হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা। সোমবার ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে। কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে- বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (বিএইচপি), হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও শিলিগুড়ি মহানগর সংগঠনের সদস্যরা সোমবার শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে ভাঙচুর চালান। পরে ভিসা সেন্টারটি বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বন্ধ ভিসা সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে হিন্দু নেতারা এটি আর যেন না খোলা হয়—এমন হুমকিও দেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের ঘটনার প্রতিবাদে এই ভাঙচুর চালানো হয়।
এদিকে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত সহকারী হাইকমিশন থেকে সব ধরনের কনসুলার সেবা ও ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে নিরাপত্তার কারণে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি সংগঠন ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ২০-২৫ জনের একটি দল বিক্ষোভ করে। তারা প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেয়।
এ ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং হুমকি অনুভব করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ভারতের কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিক্ষোভ করে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিকালে কলকাতার বেগবাগান মোড়ে শত শত বিক্ষোভকারী মিছিল করে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের দিকে যেতে থাকে। তবে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাদের আটকে দেয় কলকাতা পুলিশ।
আগরতলায়ও বাংলাদেশের ভিসা কার্যক্রম স্থগিত
নিরাপত্তার কারণে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন থেকেও সব ধরনের কনসুলার সেবা ও ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ত্রিপুরার আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনের সামনে এ সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সন্ধ্যায় দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনেও একই সেবা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ টানানো হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের এই দুই মিশনে এসব সেবা বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ ডিসেম্বর এবং পরের দিন রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করে উগ্রপন্থি এক সংগঠনের ২০-২৫ জন সমর্থক। এ সময় তারা বাংলাদেশিদের ভারত ছাড়তে বলেন।




