মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মতিন বকশের দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতিন বকশের বিরুদ্ধে আরোপিত দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মতিন বকশের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মতিন বকশ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ১৯৮৮ সালে মৌলভীবাজার থানা যুবদলের সভাপতি, ১৯৯৬ সালে জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং ২০০১ সালে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ২০১৯ সালে তিনি সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সময়ে জেলা বিএনপির নেতৃত্বেও যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পান।
রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তারের মুখে পড়েন মতিন বকশ। ১৯৯৮ সালে হরতাল চলাকালে পিকেটিংয়ের সময় প্রথম কারাবরণ করেন। এরপর ২০১১ সালে তৎকালীন পরিস্থিতিতে হরতাল আহ্বানের ঘটনায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। ২০১৫ সালে পুলিশ এসলট মামলায়, ২০১৭ সালে কোর্ট ওয়ারেন্টে এবং ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির কারণে গ্রেপ্তার হন। সে সময় তিনি নির্বাহী আদেশে রাজবন্দী হিসেবে মুক্তি পান।
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন মতিন বকশ। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচার-শালিস, সাংবাদিকতা শিক্ষা ও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




