আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-০২ (কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ি ও রাজারহাট) আসনে গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই বেশির ভাগ ভোটারের। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও গণভোট কী, কেন এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভোটারদের করণীয় কী—এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ভোটারই গণভোটের বিষয়টি প্রথমবার শুনছেন। কেউ কেউ আবার গণভোটকে সংসদ সদস্য নির্বাচন বা প্রতীকের ভোটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে বিষয়টি জানার আগ্রহ থাকলেও সঠিক তথ্যের অভাব স্পষ্ট।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার এক ভোটার বলেন, ‘ভোট তো দেব, কিন্তু গণভোট আসলে কী—সেটা কেউ বুঝিয়ে বলেনি। ব্যালটে কীভাবে ভোট দিতে হবে, সেটাও জানি না।’ রাজারহাট উপজেলার আরেক ভোটার জানান, ‘টেলিভিশনে মাঝে মাঝে গণভোটের কথা শুনছি, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ এসে বিস্তারিত বোঝায়নি।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গণভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টার, লিফলেট কিংবা মাঠপর্যায়ে সভা-সমাবেশের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিষ্কার হয়নি।
একজন স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক বলেন, ‘গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যদি এর তাৎপর্য না বোঝেন, তাহলে প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।’
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে গণভোটের প্রচারণা সম্পর্কে জানতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটগ্রহণের আগে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া জরুরি। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় সভার মাধ্যমে গণভোটের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরা গেলে ভোটারদের বিভ্রান্তি অনেকটাই কমবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-০২ আসনে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে গণভোট বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।





