মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার জুড়ী উপজেলার শিলুয়া এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর অনুসারীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় জামায়াতের নেতা–কর্মীদের বহনকারী একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
আহত জামায়াত কর্মী তারেক রহমান অভিযোগ করেন, হামলার সময় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, দুজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং লাঠিসোঁটার আঘাতে আরও কয়েকজন আহত হন।
এদিকে জুড়ী বাজার এলাকায় নাসির উদ্দীন মিঠুর বাসার সামনেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আহত আব্দুল্লাহ নামের একজন অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থীর অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু বলেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন শিলুয়া এলাকায় গিয়ে টাকা বিতরণের চেষ্টা করছিলেন। তাঁর নেতাকর্মীরা এতে বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, পরে তাঁর বাসার সামনেও হামলার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বেই তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ দস্তেগীর বলেন, তাঁরা ঘটনার খবর পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।




