জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নে অবস্থিত ভদ্রকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। এই কেন্দ্রের অধীনে থাকা সাতটি গ্রামের মধ্যে তিনটির অবস্থান নদীর এপারে হলেও চকবিজলী, চুকাইবাড়ি, তালঘরিয়া ও হলহলিয়া–এই চারটি গ্রাম পড়েছে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আনন্দ থাকলেও এই চার গ্রামের মানুষের মনে রয়েছে গভীর কষ্ট।
নদী পার হওয়ার জন্য কোনো সেতু না থাকায় ভোটারদের একমাত্র ভরসা ডিঙ্গি নৌকা। বিকল্প হিসেবে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ঘুরে কেন্দ্রে আসার সুযোগ থাকলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় নদী পার হয়েই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নদীর ওপারে চকবিজলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের নদী পার হয়ে ভদ্রকালী কেন্দ্রে আসতে হয়। নদী পার হওয়ার এই বিড়ম্বনার কারণে অনেক সাধারণ ভোটারের মাঝে ভোট দিতে যাওয়ার অনীহা তৈরি হয়েছে।
নুরুন্নবী নামের এক ভোটার জানান, নৌকা না পাওয়া গেলে বা নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় হলে অনেকেই ঝুঁকি নিতে চান না। বিশেষ করে তরুণরা কোনোমতে পার হতে পারলেও নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য এই যাত্রা অত্যন্ত দুরূহ। মোছা. বানু নামের এক ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নৌকার ব্যবস্থা থাকলেও নদীতে কোনো স্থায়ী ঘাট নেই। নদীর খাড়া ঢাল বেয়ে নৌকায় ওঠানামা করা বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই ভোগান্তির কারণে কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
ভদ্রকালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৪৪৪ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে নদীর ওপারের চার গ্রামেই প্রায় দেড় হাজার ভোটার। ভোটারদের এই ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী পারাপারের জন্য বিশেষ নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আল-মামুন মিয়া জানান, নদী পার হয়ে কেন্দ্রে আসার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকার সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। তবে ভোটারদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে চরাঞ্চলের মানুষের এই চিরস্থায়ী কষ্টের অবসান হবে।




