এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হাওর হাকালুকি অঞ্চলে এবার মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে খুশি জেলার কৃষকেরা। জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলার নদীর চর, উঁচু-নিচু জমি ও হাওর এলাকায় ব্যাপকভাবে কুমড়ার আবাদ হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, কীটনাশকমুক্ত এসব কুমড়া স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারেরা কুমড়া কিনে নিয়ে বড় আকারের ব্যবসা করছেন।
শীত মৌসুমে হাওর, বাওড় ও নদী শুকিয়ে চর জেগে ওঠে, আর বর্ষায় সেগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এ প্রাকৃতিক চক্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষকেরা চরে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বর্তমানে কুমড়া বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ থেকে কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে ভাঙাচোরা সড়ক ও ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর কারণে ফসল পরিবহনে চাষিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে।
কৃষকেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও সড়ক সংস্কার ও নদী খননে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
কম খরচে তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন। তবে সার, বীজ, কৃষি উপকরণ ও শ্রমিকের বাড়তি ব্যয় অনেককে চাপে ফেলছে।
এ ছাড়া প্রতি বছর ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাওর-সংলগ্ন নদ-নদী খনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় কৃষকেরা প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন।
ক্ষেত থেকে কুমড়া সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করা হয়। পরে রিকশা, ভ্যান ও নৌকায় করে বাজারে নেওয়া হয়। পাইকারেরা সেখান থেকে কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন।
একেকটি কুমড়ার ওজন ২ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত হয়। বাজারে প্রতিটি কুমড়া ১৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক ও পাইকারেরা জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। সময়মতো বাজারজাত করতে পারায় তারা লাভবান হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, চলতি বছর জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। উৎপাদনও সন্তোষজনক।
কৃষক ও সচেতন মহলের মতে, সড়ক উন্নয়ন ও নদী খননে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে।





