ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনে আবেগঘন বক্তব্যে সংসদকে নাড়া দেন সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিজের বিজয় উৎসর্গ করেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি।
তিনি ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা দিবসের বীর শহীদ এবং গত ১৭ বছরের দমন-পীড়নের সময় গুম ও হত্যার শিকার নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষভাবে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ সকল গুম হওয়া ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ওসমান হাদিকেও স্মরণ করেন।
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে লুনা বলেন,৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট থেকে সম্ভবত প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে আসতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়। তবে এই পথচলার এক বেদনাময় ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিলের সেই দিনটি, যেদিন তার স্বামী ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনছার আলীকে গুম করা হয়।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছি। সর্বত্র মানুষের একটাই প্রশ্ন—ইলিয়াস আলী কোথায়? তার কোনো খোঁজ কি আছে? এরপর কাঁপা-কাঁপা কণ্ঠে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারের মাধ্যমে জাতির কাছে প্রশ্ন রাখেন,ইলিয়াস আলী আজ কোথায়?
লুনা আরও বলেন, ইলিয়াস আলীর মতো অসংখ্য পরিবার আজও একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। সিলেটের দিনার, জুনেদ, আনছার আলী, সুমন, পারভেজসহ অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের স্বজনরা এখনও প্রিয়জনের কোনো সন্ধান পাননি। ফ্যাসিবাদমুক্তির এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি—এ নিয়ে তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
তিনি স্পিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীসহ সকল গুম ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি গত ১৭ বছরে আন্দোলনে গুম বা নিহত ব্যক্তিদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিগত সময়ের গুম-খুনের ঘটনাগুলো নিয়ে সংসদে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা উত্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান।




