গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আশার আলো জাগিয়েছে প্রবাসীদের সংগঠন রুকন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ইউকে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের রুকনপুর গ্রামে আলি খাঁ নদীর তীরে নির্মিতব্য ‘আত-তাকওয়া’ মেটারনিটি ক্লিনিকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মানবিক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই ক্লিনিক শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য আলোর বাতিঘর। গ্রামের অবহেলিত প্রসূতি মা ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী ও অত্যন্ত জরুরি।
রুকন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ইউকের চেয়ারম্যান আলী আহমদ নেছাওরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাংবাদিক মো. জিল্লুর রহমান জিলু ও শাহ মো. হেলাল যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। বিচারপতি আরও বলেন, প্রবাসীদের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ঘরের কাছেই সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। কেননা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই অনুপস্থিত। ফলে দরিদ্র মানুষ সামান্য চিকিৎসার জন্যও দূর-দূরান্তে ছুটতে বাধ্য হয়। এ অবস্থায় প্রবাসীদের এই উদ্যোগ শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, বরং অনুকরণীয়ও।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান, বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া, দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর উদ্দিন, পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মুজিবুর রহমান, দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলম, দয়ামীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মোশাহিদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রকল্পের উপদেষ্টা ছহুল এ মুনিম ও আব্দুল হক আবু, অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, ফাউন্ডার এখলাছুর রহমান লায়েক, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ছানাওর আহমদ সিতাব, গহরপুর জামিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম হাজীপুরী, গহরপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মুহাইমিন ও গহরপুর ব্লাড ফাইটার্সের সাধারণ সম্পাদক মুহিত আল মেরাজসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ইমাম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আলী আহমদ নেছাওর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ‘আত-তাকওয়া’ প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যতে একটি এতিমখানা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং একটি আধুনিক নার্সিং হোম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রামবাংলার প্রান্তিক মানুষের জন্য প্রবাসীদের এই অবদান প্রমাণ করে—তারা শুধু দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নন, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সমাজ উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন ফারুকী।




