মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে ঝড়-বৃষ্টির পর থেকে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যেই চলছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে দিনের বেলা পড়াশোনায় যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি রাতে কুপির ক্ষীণ আলোয় প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের। এতে স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয় কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনভিত্তিক কোনো সহায়তাও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপ্রতুল আলো ও গরমে পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। জরুরি সেবা নিতে এসে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটারনির্ভর কোনো সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সাধারণ মানুষ নানা সমস্যায় পড়ছেন।
এদিকে মোবাইল চার্জের অভাব ও নেটওয়ার্ক সংকটে অনেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বৈদ্যুতিক পাম্প বন্ধ থাকায় কিছু এলাকায় পানি সরবরাহেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়েছে এবং কিছু খুঁটি ও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
তবে দীর্ঘ সময়েও বিদ্যুৎ না ফেরায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।





