ওসমানীনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি, উদীয়মান সংবাদকর্মী হারুন রশিদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাংবাদিক হারুন রশিদের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত পরিচিতজনরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ছবি পোস্ট করে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সাংবাদিক হারুন রশিদ প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায়ও ছিলেন সক্রিয়। তার পরিচালিত জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ “মায়ার টিভি”-তে প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জনদুর্ভোগের সংবাদ তুলে ধরতেন। যেসব খবর পত্রিকার পাতা বা টেলিভিশনের পর্দায় স্থান পেত না, সেসব বিষয়ও তিনি অনুসন্ধান করে মানুষের সামনে তুলে আনতেন।
বিশেষ করে এলাকার অসহায় প্রতিবন্ধী, দুর্ঘটনায় আহত ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় তিনি প্রতি তিন মাস পরপর নিয়মিত একটি লাইভ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। এতে দেশি-বিদেশি ও প্রবাসী বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তার এই উদ্যোগে অনেক অসুস্থ ও দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষ আর্থিক সহায়তা পেয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন। সর্বশেষ মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মান্দারুকা গ্রামের অসুস্থ তরুণী মার্জনা বেগমের চিকিৎসার জন্য লাইভ অনুষ্ঠান করে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন মানুষের অনুদানের অর্থ তিনি নিজ হাতে ওই পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।
বিভিন্ন মহলের শোক
উদীয়মান সাংবাদিক হারুন রশিদের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় বরায়া কাজিরগাঁও কদমতলা তাজপুর শাহী ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। পরে জানাজা শেষে তাকে নিকটস্থ পঞ্চায়েতি কবরস্থানে দাফন করা হয়।




