টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার বিভিন্ন হাওরে হাজার হাজার হেক্টর পাকা ও আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি হাওরের ছোট বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত তিন বছর তুলনামূলক ভালোভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারলেও চলতি মৌসুমে দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে হাওরাঞ্চলের লাখো কৃষক ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সদর, শাল্লা, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার হাওরের নিচু জমিতে টানা বৃষ্টিতে পানি জমে পাকা ও আধা পাকা ধান তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ধান কাটলেও তা শুকানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। কাটা ধান বস্তায় ভরে খলায় স্তূপ করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে অনেক স্থানে ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রোদ উঠলেও হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ধান এখনো পানির নিচে। পানি দ্রুত নেমে না যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তবে রোদ ওঠায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তাঁরা ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শনির হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমার পাঁচ কিয়ার জমির ধান টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে, কাটতে পারিনি। সামনে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। ফসলরক্ষা বাঁধের অবস্থাও ভালো না।’
খরচার হাওরের কৃষক জামিল মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে পাকা ধান কাটতে পারছি না। যেগুলো কেটেছি, সেগুলোও শুকাতে না পেরে খলায় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখছি। রোদ না উঠলে ধান শুকানো সম্ভব না।’
দেখার হাওরপাড়ের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘১৫ কিয়ার জমিতে চাষ করেছিলাম। সাত কিয়ার ধান কেটে খলায় রেখেছি, রোদ না থাকায় পচে যাচ্ছে। বাকি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।’
মাটিয়ান হাওরের কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার পাঁচ কিয়ার জমির ধান তলিয়ে গেছে। কাটতে পারব না। আর যে ধান কেটেছি, সেটার অবস্থাও ভালো না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলায় ১২টি উপজেলায় জলাবদ্ধতায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়েছে। এ বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতে ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১২১ হেক্টর এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ২১০ হেক্টর ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর বোরো ধানের। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে তার চেয়ে সামান্য বেশি। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এতে বাঁধ ভেঙে আরও ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে হাওরাঞ্চলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।




