মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছসিত প্রতিক্রিয়া।
সোমবার (১৭ জুলাই) মামলার রায় হওয়ার পরপরই বেরোবির বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘এ মুহূর্তে খবর এলো খুনি হাসিনার ফাঁসি হলো’, ‘দিল্লি থেকে ঢাকায় আন, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দাও টান’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর।
বেরোবি শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, “জনতার চাপ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, দেখিয়ে দিয়েছে যে অবিচারের বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়ালে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। এটার মাধ্যমে সকলে বুঝতে পারল—গণতান্ত্রিক দাবির শক্তি কতটা। এখন শুধু রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা।”
আরেক শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান জনগণের উপর বিভিন্ন অন্যায় অত্যাচার করেছে। আজ তার ফাঁসির রায় এসেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, অন্যায় করে কেউ পার পেতে পারে না। এর মাধ্যমে সামনে যারা সরকার প্রধান হবে তাদের নিজেদের জায়গা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”
শিক্ষার্থী মেহজাবিন মারিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে রায় কার্যকর না হওয়ার আশঙ্কা করে জানান যে, “আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে সাবেক খুনি প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে”
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সর্বোচ্চ সাজা কমিয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।




