এককালের খরস্রোতা বাসিয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। শনিবার (২ মে) এ পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে উদ্বোধনের আগমুহূর্তে নদীর মূল সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখনো বাসিয়া নদীর সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করেনি। ফলে নদীর উৎসমুখসহ চারটি স্থানে খণ্ড খণ্ডভাবে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই কাজ শুরু হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—সীমানা নির্ধারণ ছাড়া খনন হলে অবৈধ দখলে থাকা নদীর জমির ভবিষ্যৎ কী হবে, কিংবা দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ হবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সীমানা নির্ধারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর ভূমি দখলদারদের হাতেই থেকে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে নদীটির অস্তিত্বকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।
অনেকের মতে, বাসিয়া নদীকে “নদী” না বলে “খাল” হিসেবে উল্লেখ করার প্রবণতাও দখল বৈধ করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
জনসাধারণের মূল দাবি ছিল, নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদার উচ্ছেদ এবং তারপর পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করা। এতে নদী প্রকৃত নাব্যতা ফিরে পেত এবং পানির প্রবাহ বাড়ত বলে মত তাদের।
“বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ”-এর আহ্বায়ক ফজল খান বলেন, “একটি চক্র বাসিয়া নদীকে খাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে অবৈধ স্থাপনা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সবাইকে সচেতন হয়ে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”
এদিকে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, সীমানা নির্ধারণ ছাড়া পুনঃখনন কার্যক্রমে প্রকৃত সুফল মিলবে না। এতে নদীর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধান হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাউবো’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, এখনও নদীর সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। তবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী কোথাও ৩৩ মিটার, কোথাও ৩৫ মিটার প্রস্থ রয়েছে। বিদ্যমান অবস্থাতেই খনন কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো বাসিয়া নদীর পুনঃখনন উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ সময় পর নতুন উদ্যোগে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি এবং আরও আড়াই লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে একদিকে যেমন নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ রয়েছে, তেমনি সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই কাজ শুরু হওয়ায় হতাশাও তৈরি হয়েছে।




