টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। হাওর থেকে ধান কেটে এনে খলায় মাড়াই করার পর তা ঠিকমতো শুকাতে না পারায় অনেক ধানেই চারা গজিয়েছে, নষ্ট হয়েছে রং ও গুণগত মান। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার বীরনগর গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া এমনই বিপাকে পড়েছেন। নিজের জমি না থাকায় ধারদেনা করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ২০ কিয়ার জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন হলেও টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকাতে না পারায় বিপাকে পড়েন। হাওরে পানি বাড়ার আশঙ্কায় দ্রুত ধান কেটে আনলেও খলায় রাখা প্রায় ১৫০ মণ ধানে চার দিন রোদ না পাওয়ায় চারা গজিয়েছে। পরে রোদ উঠলে সেগুলো শুকানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
শাহজাহান মিয়া বলেন, এই ধানই তাঁর সারা বছরের সম্বল। কিন্তু ধানের এমন অবস্থায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন। ধারদেনা শোধ ও পরিবারের খরচ চালানো নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
একই অবস্থা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরপাড়ের কৃষক আব্দুল কাইয়ুমের। তিনি দুই লাখ টাকা ধার করে ২৫ কিয়ার জমিতে চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে ৫ কিয়ার জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি ধান কাটতে পারলেও শুকাতে না পারায় তাতেও চারা গজিয়েছে।
শুধু শাহজাহান মিয়া বা আব্দুল কাইয়ুম নন, জেলার হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক একই সমস্যায় পড়েছেন। কোথাও ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পেরে নষ্ট হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর হাওরে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে খলায় স্তূপ করে রাখা বিপুল পরিমাণ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক চারা গজানো ধান শুকিয়ে কোনোভাবে বিক্রির উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। অনেকে বলছেন, ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হতে হতে পারে।
চার দিন পর রোদ উঠায় এখন হাওরের খলায় খলায় ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ততা দেখা গেছে। শ্রমিকেরা নৌকা ও মাথায় করে ধানের বোঝা এনে সড়কের পাশে স্তূপ করছেন। আবার কোথাও যন্ত্রের সাহায্যে মাড়াই করা ধান বাড়ির আঙিনা বা জমির পাশে এনে শুকানো হচ্ছে।
তবে শ্রমিকসংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষক সাকিল মিয়া বলেন, হাওরে পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারেও সমস্যা হচ্ছে। শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন সুফল মিলছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
তাহিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।





