হাওরাঞ্চলে ফসল তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী সহায়তা প্রদানসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘হাওরাঞ্চলের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটি’।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলন পরিচালনা কমিটির জেলা আহ্বায়ক সৌরভ ভূষণ দেব, যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, আঞ্চলিক কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার হাওরাঞ্চলের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সাময়িক কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, হাওরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাবে ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হতে হচ্ছে। ফলে ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় প্রায় অর্ধলক্ষ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে দাবি করা হয়। নেতৃবৃন্দের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলেই হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
তারা বলেন, দুর্বল ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনায় অপরিকল্পিত পল্লী সড়ক নির্মাণ, ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নামে খাল-বিল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হাওরের পরিবেশ ও জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও ঋণ মওকুফ, হাওরের ইজারা বাতিল করে সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার, নদ-নদী ও খাল-বিল বৈজ্ঞানিকভাবে খনন এবং দীর্ঘমেয়াদি হাওর রক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কার্যকর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হলে হাওরাঞ্চলকে জলাবদ্ধতা ও অকাল বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।





