যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দলীয় ভেতরে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজই তিনি ক্ষমতা ছাড়ার সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।
লেবার সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী ডারেন জোনেস জানিয়েছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে স্টারমার দলকে নেতৃত্ব দেবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি “আগাম কিছু বলতে চান না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গোপনে স্টারমারকে “সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়ানোর” পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। সংকট আরও গভীর হয়েছে পাঁচজন মন্ত্রীর সহকারী পদত্যাগ করায়।
পদত্যাগকারীদের একজন জো মরিচ, যিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রী উয়েস স্ট্রিটিং এর সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইতোমধ্যে ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
আজ সকালে অনুষ্ঠিতব্য সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হতে পারে।
ওয়েস্টমিনস্টারে আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়ে উঠেছে। যদি স্টারমার সরে দাঁড়ান, তাহলে মাত্র চার বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য চতুর্থ প্রধানমন্ত্রীর বিদায় দেখবে, যা সাম্প্রতিক ব্রিটিশ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।




