গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) সাম্প্রতিক নির্দেশনার সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি। দলটি এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সম্প্রতি অ্যাটকোর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মরত অবস্থায় অথবা চাকরি ছাড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ‘অনাপত্তিপত্র’ (এনওসি বা ছাড়পত্র) ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি বলেছে, বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা, কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক চলাচল এবং শ্রম অধিকারের প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

দলটির মতে, কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, নোটিশ পিরিয়ড, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। তবে কোনো কর্মীকে কার্যত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করে নতুন কর্মসংস্থানের পথ সীমিত করা অন্যায় এবং অমানবিক।
বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ শঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের নির্দেশনা কর্মীদের পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে এবং চাকরি পরিবর্তনের অধিকারকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণের উপায়ে পরিণত করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধ, বেতন বকেয়া, অনৈতিক আচরণ বা কর্মপরিবেশ নিয়ে সমস্যা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ছাড়পত্র দিতে অনাগ্রহী হয়, তাহলে একজন কর্মী দীর্ঘ সময় পেশাগত অনিশ্চয়তায় পড়েন, যা শ্রমনীতির পরিপন্থী।
দলটি আরও বলেছে, ক্ষমতার ভারসাম্য একতরফাভাবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে গেলে কর্মীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। সে কারণে অ্যাটকোর এ নোটিশ পক্ষপাতমূলক। স্বাভাবিক নীতিমালা অনুসরণ করে একজন কর্মী ইস্তফাপত্র দেওয়ার পর এনওসির আবেদন করলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। অন্যথায় গণমাধ্যমকর্মীরাও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন—এ মর্মে অ্যাটকোকে পুনঃনোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি বলেছে, প্রতিযোগিতামূলক গণমাধ্যম শিল্পে দক্ষ কর্মীদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে উদ্ভাবন, পেশাগত বিকাশ এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা কাম্য নয়।
দলটি আরও বলেছে, গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চাকরি পরিবর্তন নিয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি মনে করে, কর্মী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে; কোনো ধরনের অনানুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা বা অদৃশ্য চাপের ভিত্তিতে নয়।
শেষে দলটি অ্যাটকোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার, শ্রমনীতি, পেশাগত স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।




