যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ দলের এমপি ও শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিক বার্মিংহামের হ্যান্ডসওয়ার্থ এলাকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ওই এলাকার বৈচিত্র্যময় জাতিগোষ্ঠীকে অবমাননা করে জেনরিক বলেন, এটি “দেশের ভেতরে দেখা সবচেয়ে নোংরা বস্তির মতো।”
ঘটনাটি প্রকাশ পায় মার্চ মাসে এক কনজারভেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ডিনারে দেওয়া তাঁর বক্তব্য থেকে। সেখানে জেনরিক বলেন, “বার্মিংহামের হ্যান্ডসওয়ার্থে গিয়েছিলাম আবর্জনা নিয়ে একটি ভিডিও করতে। জায়গাটি দেখে আমি হতবাক—এটি যেন একটি বস্তি। আরও অবাক হয়েছি, দেড় ঘণ্টা শুটিংয়ের সময় আর কোনো শ্বেতাঙ্গ মুখ দেখিনি। এমন জায়গায় আমি আগে কখনও যাইনি। এটা সেই ধরনের দেশ নয়, যেখানে আমি থাকতে চাই।”
বক্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। স্থানীয় রাজনীতিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সংগঠনগুলো জেনরিকের মন্তব্যকে “বর্ণবাদী” ও “অবমাননাকর” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, হ্যান্ডসওয়ার্থ বহু দশক ধরে যুক্তরাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের প্রতীক—সেখানে এমন মন্তব্য কেবল বিভাজন সৃষ্টি করে।
বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, হ্যান্ডসওয়ার্থের জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ পাকিস্তানি, ২৩ শতাংশ ভারতীয়, ১০ শতাংশ বাংলাদেশি, ১৬ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান বা ক্যারিবীয়, ১০ শতাংশ মিশ্র বা অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর, আর ৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ।
তবে জেনরিক মঙ্গলবার দ্য টেলিগ্রাফ–এর ডেইলি টি পডকাস্টে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, “আমাদের শহরের কিছু এলাকা এখন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা উচিত, শুধু ‘বর্ণবাদী’ তকমার ভয়ে চুপ থাকা নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওই জায়গাটি সত্যিই বস্তির মতো লাগছিল। আমি কেবল যা দেখেছি তাই বলেছি—এটা ছিল একটি পর্যবেক্ষণ।”
তাঁর এই ব্যাখ্যায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধী দল লেবার পার্টির এক মুখপাত্র বলেন, “এমন বক্তব্য ব্রিটেনের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থী। একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিকের কাছ থেকে এই ধরনের মন্তব্য গভীরভাবে হতাশাজনক।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেনরিকের মন্তব্য তাঁদের সম্প্রদায়ের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। হ্যান্ডসওয়ার্থের এক স্থানীয় নেতা দ্য গার্ডিয়ান–কে বলেন, “এলাকাটির ইতিহাস সমৃদ্ধ, এখানকার মানুষ পরিশ্রমী ও শান্তিপ্রিয়। তাঁকে এখানে আসতে হবে, আমাদের চোখে ‘বস্তি’ নয়—একটি ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি দেখতে।”




