কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি। একই সঙ্গে চামড়া খাতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে তা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকট স্বাভাবিক বাজার প্রক্রিয়ার ফল নয়; বরং এটি অতীত সরকারের আমলে তৈরি একটি সুপরিকল্পিত পরিস্থিতি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কওমি মাদরাসাগুলো।
বৈঠকে দলটির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসানের লেখা ‘কোরবানির চামড়ার মূল্য: প্রেক্ষিত কওমি মাদরাসা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইউসুফ হাসান আম্মার। তিনি বলেন, গত বছর কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য সরকার ৩০ হাজার টন লবণ বিনা মূল্যে বিতরণ করেছিল। তবে এই উদ্যোগ প্রকৃত প্রাপকদের বদলে মধ্যস্বত্বভোগীদের বেশি লাভবান করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মূল প্রবন্ধে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মনোপলি মডেল প্রস্তাব করা হয়। এতে উপজেলা পর্যায়ে অস্থায়ী সরকারি চামড়া সংগ্রহকেন্দ্র স্থাপন এবং ধান-চালের মতো ‘ন্যূনতম সহায়তা মূল্য গ্যারান্টি স্কিম’ চালুর সুপারিশ করা হয়। বক্তারা মনে করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে মাদরাসার অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।
বৈঠকে সদস্যসচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে চামড়ার বাজারে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮০–৯০ টাকা, যা বর্তমানে ৫০–৬০ টাকায় নেমে এসেছে। তিনি দাবি করেন, কওমি মাদরাসার আয়ের বড় অংশ চামড়া থেকে আসায় এই খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শারাফাত শরীফ বলেন, ট্যানারি সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি বছর কওমি মাদরাসাগুলো বিপুল আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বাজার অল্প কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় মাদরাসাগুলো বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করছে।
বৈঠকে আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও দেশে গত এক দশকে যে দরপতন ঘটেছে, তা অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠক থেকে সরকারকে চামড়া শিল্পকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় আনা, সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং মাদরাসা ও এতিমখানার ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের প্রশাসন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শারাফাত শরীফ, আবুবকর সিদ্দিক, ওমর ফারুক জুবায়ের, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হাফেজ কেফায়েত এবং আমন্ত্রিত অতিথি আশরাফ আলী কোব্বাদী ও মো. মিজানুর রহমান।




