মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অপহরণকারী ও ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর কলরেকর্ড (সিডিআর) থেকে অবস্থান শনাক্ত করা হলেও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালায়নি। এমনকি থানায় গিয়ে অপহরণের মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও তা গ্রহণ করেনি পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হাজেরা বেগমের নাতনি ও বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা আক্তারকে (১৭) একই এলাকার শ্রীধরপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে শামীম আহমদ (২২) দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি হাবিবার কাছে প্রেমের প্রস্তাব দেন, কিন্তু ছাত্রীটি তা প্রত্যাখ্যান করে।
এর জের ধরে গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে হাবিবা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় শামীম ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক একটি নোহা মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
ঘটনার দুই দিন পর হাবিবার নানি হাজেরা বেগম বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাঁর দাবি, পুলিশের পরামর্শে কয়েক হাজার টাকা ব্যয়ে ভিকটিম ও অপহরণকারীর সিডিআর তোলা হয় এবং অবস্থান শনাক্ত করা হয়। কিন্তু পুলিশ তা জেনেও উদ্ধার অভিযান চালায়নি। এমনকি উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতার জন্য থানায় গাড়ি নিয়েও গিয়েছিলেন তিনি, তবু পুলিশ ফেরত পাঠায়।
হাজেরা বেগম বলেন, ‘দেড় মাস হয়ে গেল, আমি থানায়, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি। কিন্তু এখনো আমার নাতনির কোনো খোঁজ নেই। অপহরণে জড়িতদের নাম-ঠিকানাসহ সব তথ্য দিয়েছি, তবু মামলা নেয়নি পুলিশ।’
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘এর আগেও ওই কলেজছাত্রী একই ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ি থেকে গিয়েছিল। পরে পুলিশ তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছিল। এবারও অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু অভিযানের আগেই তারা স্থান পরিবর্তন করে। বাদী প্রথমে হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবস্থানের কথা বলেছিলেন, পরে জানা যায় তারা ভোলায় আছে। একই বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি তদন্তাধীন থাকায় নতুন করে অপহরণের অভিযোগটি নেওয়া হয়নি।’





