মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শত শত চা শ্রমিক। “চা শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেই হবে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার সকালে শমশেরনগর চা বাগান ফ্যাক্টরির সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকা ‘ক্যামেলিয়া হাসপাতাল’ দ্রুত চালুর দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
শমশেরনগর, কানিহাটি, বাঘীছড়া, দেওছড়া ও ডাবলছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত, শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক অংশ নেন। ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে তারা হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবিতে সোচ্চার হন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, গত ২৬ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানের এক শ্রমিকের কিশোরী কন্যার অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে সেবা বন্ধ করে দেয়। প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে।
বক্তাদের দাবি অনুযায়ী, ক্যামেলিয়া হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় কমলগঞ্জ ও আশপাশের ৩৫টি চা বাগানের প্রায় এক লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসা, মাতৃসেবা ও শিশু চিকিৎসার একমাত্র আশ্রয়স্থলটি বন্ধ থাকায় অসহায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন “চা শ্রমিকরা অর্থনীতির চাকা সচল রাখলেও তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা আজ অনিশ্চিত। দ্রুত হাসপাতাল না খুললে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
বক্তারা বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য অধিকাংশ শ্রমিকের নেই। ফলে সাধারণ রোগ থেকেও শুরু করে প্রসূতি মায়েরা বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি খুলে দিয়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশের চা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের অভাবে বাগানগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা এমনিতেই ভঙ্গুর। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ক্যামেলিয়া হাসপাতাল পুনরায় চালু করা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি হাজার হাজার শ্রমিকের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন।
চা শ্রমিকরা দ্রুত তাদের চিরচেনা হাসপাতালের দুয়ার খোলার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন। প্রশাসন ও মালিকপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টাই পারে এই সংকট নিরসন করতে।




