সিলেট সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে আবারও ফিরছেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে সিলেট সিটির নির্বাচিত মেয়র ছিলেন তিনি। এবার তিনি আসছেন ‘ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক’ হিসেবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল তিনি রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দলীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর তিনি প্রশাসনিক যোগাযোগ শুরু করেন।
এদিকে, তার পুরনো টিমও সক্রিয় হয়ে উঠছে। সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন, এবং ব্যক্তিগত সহকারী সোহেলও ফিরে আসছেন বলে জানা গেছে। সব কিছু অনুকূলে থাকলে আগামী মাসেই আরিফুল হক চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত প্রশাসকের দায়িত্ব নিতে পারেন।
সরকারি সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন সিটিতে যেসব অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক রয়েছেন, তারা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে করপোরেশনের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আলাদা প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার আওতায় সিলেটও রয়েছে।
এদিকে, বিএনপির চার শীর্ষস্থানীয় সাবেক মেয়র—সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরী, ময়মনসিংহের ইকরামুল হক টিটু, বরিশালের কামরুজ্জামান কামরান এবং খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু—সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়ে প্রশাসকের দায়িত্ব চেয়েছেন। তারা সকলেই বিগত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে বিজয়ী হয়েছিলেন।
এই চার নেতার সম্ভাব্য ফেরার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, বিএনপি নেতাদের হাতে দায়িত্ব দিলে তৃণমূল রাজনীতি, জনগণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মেয়াদোত্তীর্ণ করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রয়েছে এবং সিলেটসহ চারটি সিটিতে আলাদা প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিলে নিয়োগ কার্যকর হবে।
অপরদিকে, আরিফুল হক চৌধুরী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং মেয়াদ শেষে দায়িত্ব ছেড়েছি। এখন যদি সুযোগ আসে, আমি আবারও জনগণের সেবা করতে প্রস্তুত।”
সিলেট শহরের নানা সেবাখাতে ধীরগতির বিষয়ে নাগরিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শহরের পরিচ্ছন্নতা, পানিসাপ্লাই, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তার বাতি সবই অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে বলে জানান নাগরিকরা। তাদের মতে, একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসকই এই অচলাবস্থা কাটাতে পারেন।
সব মিলিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন আবারও আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে ফিরে আসতে চলেছে—এমন আভাসেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে।




