সুনামগঞ্জে বোরো ধান রক্ষায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও ধীরগতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিটি উপজেলায় মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে কর্মসূচি থেকে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। এতে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি ও কাজের ধীরগতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সহসভাপতি সুখেন্দু সেন ও চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ নুর আহমদ, সহসভাপতি আলী নূর, জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, বাবুল দাস, শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও হাজী আব্দুর নুর।
এ ছাড়া আনোয়ারুল হক, ইসমাইল হোসেন, নূর হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফ আলী, শওকত আলী, মুক্তার আলী ও শুকুর আলী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত গুপ্ত।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসন বিগত বছরগুলোর মতো এবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কাজের চাপকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনিয়ম আরও বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি। অনেক অপ্রয়োজনীয় বাঁধে উৎকোচের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং নামেমাত্র কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তাঁদের দাবি, জেলায় এখন পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ মাত্র ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কোনো কোনো উপজেলায় দৃশ্যমান কাজও শুরু হয়নি।
বক্তারা জানান, গত বছর বাঁধ নির্মাণে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা চলতি বছরে বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। অথচ ভরা বর্ষা না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত ছিল। সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই মনগড়া সিদ্ধান্তে অপরিকল্পিত বাঁধে দ্বিগুণ-তিনগুণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
বক্তারা বলেন, সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন না হলে এর দায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনকে নিতে হবে। প্রয়োজনে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন। সদর, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে জামালগঞ্জের পাকনার হাওরের বগলার খালী এবং সদরের সিলুয়ার হাওরে ক্লোজার ও খননকাজে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৬৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, এবার অনেক দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ করতে হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। পাশাপাশি ভ্যাটও বৃদ্ধি পেয়েছে।





