বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় সরকারি লোহার পুল চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। গত এক মাস আগে পুল চুরির ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন অপরাধীরা। অন্যদিকে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও উদাসীনতায় লাখ লাখ টাকা গচ্চা যাবে সরকারের।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ঠিকাদার ওয়াটার পাস স্ট্রাকচার কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরুর আগে পুরাণ লোহার পুল ভেঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে না বুঝিয়ে রাতের অন্ধকারে চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনা নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেলে। সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং তথ্য সংগ্রহ করতে যান।
এ বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে অবগত করলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লোহার পুল চুরির তথ্য জানাজানির পর রিয়াদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে ছিল। সে বলেছে চুরির বিষয় থানায় জিডি হয়েছে। এরপর এই বিষয়টি মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। জিডির কপি আপনি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, না অমি কোন জিডির কপি পাইনি। সরকারি মালামাল চুরি বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও নেয়া হয়নি। বর্তমানে চুরির ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে জোর তদবির চালাচ্ছে।
তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ার কারণে ঠিকাদার নামধারী বামনা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মো. রিয়াদ চৌধুরী ক্ষুব্ধ হয়ে (৩জুন ২০২৫) ইং মঙ্গলবার তার দলবল নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক জসিম মেহেদী কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ চোখ উঠিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ঘটনায় বামনা থানায় একটি সাধন ডায়েরি করা হয়েছে। যার নং ১০৫। এই ঘটনায় বামনার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন যুবদল নেতার এমন কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। রিয়াদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তথ্য মতে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় চাঁদাবাজির অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে ডিটেনশন দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, উক্ত সংবাদের তথ্য সংগ্রহ ও আগে-পরে পুল চুরির ঘটনায় কোন জিডি হয়নি। জিডি করার জন্য এখনও থানায় ঘুরছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন,পতিত স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যুবদলের দলীয় পদবি ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। বর্তমানে বামনা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মো. রিয়াদ চৌধুরী চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এই যুবদল নেতার অত্যাচারে উপজেলাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে এসব কৃতকর্ম নিয়ে অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকায় সে অরো বেপরোয়া।




