কুমিল্লার মুরাদনগরে সাড়ে পাঁচ মাসেই কুরআনের হাফেজ হয়েছে সাইদুল ইসলাম নামে ৮ বছরের এক শিশু। মুরাদনগর উপজেলার বাইড়া দারুল কুরআন নুরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা থেকে কুরআন মুখস্ত করে ওই শিশু শিক্ষার্থী। সে বাইড়া গ্রামের সবজি বিক্রেতা আক্কাস আলীর ছেলে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে কুরআনে হাফেজ হওয়ায় সাইদুলকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। হাফেজ অহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়বুর রহমান তুহিন, মাওলানা আমজাদ হোসাইন, সাজ্জাদ হোসেন, হাফেজ সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলেন, সাইদুলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে খুব কম সময়ে সে হিফজ সমাপ্ত করতে পেরেছে। মাত্র সাড়ে ৫ মাস ১৮ দিনেই এ শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন মুখস্ত করার গৌরব অর্জন করে। তার এমন কৃতিত্বে অভিভাবক, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী আনন্দিত। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন শিশু হাফেজের পরিবার। এটি আমাদের মাদরাসার প্রথম অর্জন। হাফেজ সাইদুল খুবই ভালো ছেলে। সে খেলাধুলা কিংবা বাজে আড্ডায় সময় নষ্ট করেনি।
সাইদুলের বাবা আক্কাস আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই কুরআন হিফজের বিষয়ে সাইদুলের প্রবল ইচ্ছা ও আকর্ষণ ছিল। মাদরাসায় ভর্তির জন্য সে নিজেই প্রচেষ্টা চালায়। ২০২৪ সালের ৬ ডিসেম্বর তাকে মাদরাসায় ভর্তি করানো হয়। ২০২৫ সালের শুরুতে তাকে পবিত্র কুরআনের সবক দেওয়া হয়। সাড়ে ৫ মাসের মধ্যেই সে কুরআনের হাফেজ হয়ে ওঠে। দ্রুত সময়ে তার সফলতায় আমরা সবাই খুব খুশি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি মাদরাসার শিক্ষকদের প্রতি । ভবিষ্যৎতে আরো বড় হয়ে যেন হাফেজ সাইদুল কোরআনের খেদমত করতে পারে দেশবাসীর কাছে এই দোয়া চাই।
হাফেজ সাইদুল জানায়, আমি চেষ্টা করেছি, আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই মহাগ্রন্থ কুরআন আয়ত্ত করতে পেরেছি। ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং হাক্কানি আলেম হওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।




