‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়’ উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মইন খান বলেছেন, গায়ের জোরে একজনের মত আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত এক বছরে কি অর্জন করেছে, তা বিশ্লেষণ করতে হবে। তাদের কাছে দেশের মানুষের একটাই প্রত্যাশা, সেটা হলো গণতান্ত্রিক উত্তরণ। গত কয়েক দিনের ঘটনা প্রবাহ কি সত্যিকার মানবসৃষ্ট, নাকি উদ্দেশ্যমূলক সাজানো নাটক তা উদঘাটন করতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এখন কেবল একটাই পথ আর তা হলো একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। এর বাইরে আর কোনো পথ নেই।
বুধবার (১৬ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, কারো বিরুদ্ধে কথা বলে না। যদি সবাই সত্যিকার অর্থে দেশকে ভালোবাসে এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে বিশ্বাস করে, তাহলে দেশে বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। বিগত ১৫ বছর একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল মুখে স্বাধীনতার কথা বলে গেছে। অথচ স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে বারবার হাত মিলিয়ে দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করেছে। বিএনপি শুধু বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। যারা বর্তমানে দেশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছেন, তাদের শুধু একটা কথাই বলব যে, আপনারা বাংলাদেশকে ভালোবাসতে শিখুন। বর্তমানে যারা দেশজুড়ে সহিংসতা-হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন তাদের বলব, সঠিক পথে ফিরে আসুন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. মঈন খান বলেন, ৫ আগস্টের বিজয় যেন কোনো দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের চেতনাকে জাতির সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। ৫ আগস্টে যে বিজয় এসেছে, সেটা ছিল সংগ্রামের প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। তবে তা এখনও হয়নি। আর তৃতীয় ধাপ হলো জনগণের নির্বাচিত সরকার। তাহলেই আমাদের সেই বিজয় পূর্ণতা পাবে। বন্দুকের ভয় দেখিয়ে আরেকজনের মতবাদ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যারা এ পন্থা অবলম্বন করে, তাদের এ পন্থা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।




