মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার রুবেল মিয়ার নেতৃত্বে বড় একটি চক্রকে ধরতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩ জন ডাকাত গ্রেফতার হওয়ার পাশাপাশি ২টি পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে বাউরবাগ এলাকায় একটি কবরস্থানে ৬/৭ জনের ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডাকাতির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয় জনতা বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করলে ডাকাতরা গুলি ছোড়ে। এতে ডাকাত দলের নিজস্ব সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০) ভুলবশত গুলিবিদ্ধ হয়। উত্তেজিত জনতার সহায়তায় তাকে একটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আটক আতিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। গত ১৬ এপ্রিল সিলেটের সিলাম ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়া (৪০) এবং তার সহযোগী আশরাফ হোসেন ওরফে আশাইকে (২৯) গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এদিন ভোরে কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি কলা বাগান থেকে আরও একটি দেশীয় পাইপগান ও কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার হরিধরপুর গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৪০), মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার বুড়িকোনা গ্রামের সৈয়দ মখলিছুর রহমানের ছেলে সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০), এবং সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার কালনিরচর গ্রামের মৃত জয়তুন উল্লাহর ছেলে আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাই (২৯)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। সর্দার রুবেলের বিরুদ্ধে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। টিমে আরও ছিলেন এসআই হীরণ কুমার বিশ্বাস, উৎপল কুমার সাহা, জয়ন্ত সরকার এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা অত্যন্ত দুর্ধর্ষ। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ কোনো আপস করবে না।




