রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন রজনী নামে এক নারী। গতকাল সোমবার তাকে ঢাকা সিএমএস হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত রজনী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাওট গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে। তার স্বামী জহিরুল ইসলাম ব্যবসায়িক সূত্রে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন।
সোমবার দুপুরে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর শুনে নিজের শিশুকন্যাকে বাঁচাতে শ্রেণিকক্ষের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন রজনী। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই শিশুটি স্কুল ভবনের বাইরে বের হয়ে আসে। এতে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও অগ্নিদগ্ধ হন রজনী।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে সিএমএস হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারসূত্রে জানা গেছে, স্বামীর বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুর গ্রামে রজনীর দাফন সম্পন্ন হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। ১টা ১৮ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দুর্ঘটনার খবর পায়।
পরে জানা যায়, বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই মডেলের চীনে তৈরি যুদ্ধবিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্কুলের চত্বরের একটি দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে। বিমানটি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই স্কুল ভবনে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিমানের পাইলটসহ ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।




