স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না। প্রার্থীরা সবাই হবেন নির্দলীয়, যা এখন স্বতন্ত্র নামে পরিচিত। ২০১৫ সালে আ‘লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন দল ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। অন্তর্বর্তী সরকারের করা নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনও দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা এই বিধান বাদ দিলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তিও নির্বাচনে আগ্রহী হবেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত চারটি আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে। পরে বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ তথ্য জানান। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০১৫ সালে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং সে অনুযায়ী আইন সংশোধন করা হয়। এবার সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে। এর প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশন আইন ২০১৫ এর ৩২ এর ক ধারা, পৌরসভা আইন ২০১৫ এর ২০ এর ক ধারা, উপজেলা পরিষদ আইন ২০১৫ এর ১৬ এর ক ধারা এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০১৫ এর ১৯ এর ক ধারা- এই ধারাগুলো বিলুপ্ত করার প্রস্তাব আজ উত্থাপন করা হয় এবং উপদেষ্টা পরিষদ তা অনুমোদন করে। এর ফলে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আর কোন সুযোগ নেই, এখন থেকে আলাদা আলাদা প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হানাহানি কমে আসবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাদের নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে জিতে আসতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সংশোধনী অনুমোদন হওয়ার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সংশোধনী আনা হয়েছে । তবে আগে-পরে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা সম্পূর্ণ জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের ঐকমত্যের উপর এটি পুরোপুরি নির্ভর করে। উপদেষ্টা পরিষদে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৫৫ ও ১৮৭ এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।




