স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার তদন্ত যত দ্রুত সম্পন্ন করা যায় সেজন্য কাজ করছে সরকার। কয়েকটি ক্ষেত্রে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। মামলায় আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। যত দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করা যায় সেজন্য সরকার কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি বা কোনো ধরনের প্রতিনিধি নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা সুবিচার পাবে।
রবিবার (২৭ জুলাই) বিকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের লিচুতলা এলাকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনকালে শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করীম মল্লিক, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। মুন্সীগঞ্জ জেলার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত এক বছরে বিচারিক কাজ যতটুকু এগোনোর কথা ছিল, হয়তো পুরোপুরি তা হয়নি, তবে অগ্রগতি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা অভিযোগপত্র দিয়েছি। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য সাধারণ মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রের প্রক্রিয়ায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আসামির অতিরিক্ত সংখ্যা। অনেক ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। একটা ঘটনায় যেখানে ২০ জন আসামি হওয়ার কথা, সেখানে ২০০ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে। তবে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সরকার সক্রিয় রয়েছে, “যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা যায়, সেই বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে হামলা-নিহতের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
এ সময় শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, দেশের শহীদদের কবর সংরক্ষণে সারাদেশেই বাধ্যতামূলক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। একইসঙ্গে গণভবনকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, গণভবনকে মিউজিয়াম করা।। ফ্যাসিবাদের পতনের পুরো ঘটনাটাই পনের-সাড়ে পনের বছরের। সেটাকে সামনে রেখে আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। একনেকের সদস্য হিসেবে বিষয়টি আমি অবগত। জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্পটি আজ ফেরত দিয়ে দিয়েছি, পাস করিনি। কারণ, এর মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি আমরা পেয়েছি। আমরা এটিকে পুনরায় রিভিউ করব এবং এ বিষয়ে কিছু তদন্তেরও প্রয়োজন আছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




