বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে। আমরা এমন একটি জাতি, জনগণ যেসব রাজনীতিবিদদের সেবক মনে করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারাই গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে-হাসিনা এটা করেছে। আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকালে সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুর গণকবাড়ী দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে ‘নারকীয় আশুলিয়া’ ব্যানারে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুল বলেন, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় হিটলার যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল আশুলিয়ায় সেইভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের যে আন্দোলন তা ৭১ এর যুদ্ধের পরই পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু স্বৈরাচার সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে চিরদিন ক্ষমতা টিকে থাকতে চেয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে হাজারো শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই দানবের হাত থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। আজকের জনসভায় হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে হাসিনার বিচারের যে দাবি উঠেছে, এ দাবি আজ পুরো জাতির। হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে পালিয়ে থেকে অডিও-ভিডিও ক্লিপ প্রচার করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উসকে দিচ্ছে যার প্রমাণ আপনারা গোপালগঞ্জে দেখেছেন। গত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের মানুষের উপর স্টিমরোলার চালিয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেশকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসার জন্য আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে একটা ভিশন ২০-৩০ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রটাকে বদলানোর জন্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন এই রাষ্ট্রটাকে বদলানোর জন্য, কাঠামো বদলানোর জন্য এবং বিভিন্ন সংস্কারের জন্য। এখনো আমরা দেখছি শহীদ পরিবার ন্যূনতম যতটুকু সহযোগিতা পাওয়া দরকার ছিল সেটুকু তারা পায়নি। যারা পঙ্গু এবং আহত হয়েছিল, তাদের চিকিৎসা চূড়ান্ত হয়নি। সরকারকে আহ্বান জানাবো আপনাদের যে মেশিনারি আছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছেন তারা এই খবরগুলো নিয়ে যেন সহায়তা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলার সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়। এর আগে সভার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে শহীদদের পরিবারের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। জনসভা মঞ্চে এ সময় প্রতীকীভাবে পিকআপ ভ্যানে মানুষের প্রতিকৃতিতে আগুন লাগার দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়।




