আগামী নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোর্টের স্টে অর্ডার নিয়ে। মহিউদ্দিন খান আলমগীর তো ঋণখেলাপি অবস্থায় পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছিলেন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ‘ইউ পেনশন’ অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ইউ পেনশন’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই এখন থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশনের স্কিম বা চাঁদা দেওয়া যাবে। মোবাইল থেকে লগইন, যাবতীয় তথ্য যাচাই করা এবং নোটিফিকেশন পাবেন গ্রাহকরা। অ্যাকাউন্টের নমিনি পরিবর্তন বা অন্যান্য সব কাজই অ্যাপসের মাধ্যমে করা সম্ভব।
রাজনীতির মাঠে নির্বাচন নিয়ে এমন বক্তব্য এলেও অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সব ধরনের সহযোগিতা অর্থমন্ত্রণালয় থেকে করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে ভালো একটা নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা আমরা করবো। ঋণ খেলাপিরা তো থিওরেটিক্যালি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন ঋণ খেলাপির বিষয়টি দেখবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করার জন্য যা যা লাগে, আমরা সব সাপোর্ট দেব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কালো টাকার উৎস বন্ধ করার চেষ্টা করছি। আগে তো ব্যাংকের মালিক, শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক, নিউজ পেপারের মালিক, ফ্লাটের মালিক সব একজনই। এখন তো মোটামুটি একটু চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হচ্ছে। এখনো আমাদের কাছে বিষয়টি আসে নাই। নির্বাচন কমিশন চিন্তা করবে যে এটা কীভাবে ঠিক করবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। রাজনীতিবিদরা যদি উৎসাহ দেন যে, টাকা পয়সা দিয়ে মনোনয়ন দেবেন, ভোট দেবেন, তাহলে আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ে থেকে তো কিছুই করতে পারব না।
তিনি আরো বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ভুলত্রুটি থাকলে সংশোধন করা হবে, সরকারি কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এই স্কিমে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে রাজনীতির মাঠে কারো বক্তব্যে কিছু আসে যায় না। রাজনৈতিক বক্তব্য ওরা রাখুক। আমি বামপন্থি রাজনীতি করেছি। তখন কত বক্তব্য দিয়েছি। হল বন্ধ করে দাও, ইউনিভার্সিটি বন্ধ করে দাও, বন্ধ কী হয়েছে নাকি?




