সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু সায়মন সেদিন মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল বাতাকান্দি বাজারে। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট বিকেল। মায়ের সাথে বাজারে ঘুরে একটি কোমল পানীয় কিনে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় সে। পরিবারে শুরু হয় উৎকণ্ঠা, আর গ্রামে নেমে আসে আতঙ্ক।
দুই দিন পর, ১৮ আগস্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা খোরশেদা আক্তার। কিন্তু পরদিনই ভোরে গ্রামের মাঠের এক ঝোপে মেলে সায়মনের অর্ধগলিত, পোড়া লাশ। সে দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন সবাই। সেই থেকেই শুরু হয় শিশু হত্যার হৃদয়বিদারক মামলার তদন্ত।
সায়মনের মা তখনই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছেলের চাচী শেফালী বেগমসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তদন্ত এগোতে থাকলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—শেফালী বেগমের সঙ্গে গ্রামের এক ব্যক্তি বিল্লাল পাঠানের অনৈতিক সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়াতেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ছোট্ট সায়মনকে। পরে লাশ পোড়ানো হয়, যাতে চিহ্ন মুছে যায়।

তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ শেফালী বেগম ও বিল্লাল পাঠানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার শুনানিতে ১৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
দুই বছরের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে বুধবার কুমিল্লার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিল্লাল পাঠানকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং শেফালী বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একই অঙ্কের জরিমানা করা হয়। এছাড়া লাশ গুমের অভিযোগে উভয়কে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি বিল্লাল ও শেফালী কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। সাজা ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
শিশু সায়মনের মা খোরশেদা আক্তার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“আমি আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। তবে রাষ্ট্র যেন দ্রুত এ রায় কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।”




