বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আখতার হোসেন বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই একটি নিয়মভিত্তিক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের অবশ্যই একটি নিয়মভিত্তিক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আমরা মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে সক্ষম হবো। আমরা বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশ থেকে ৩-৪ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর পিআরআই’র সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট-পিআরআই’র সেন্টার ফর ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যানালাইসিস (সিএমইএ) অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ-ডিএফএটির সহযোগিতায় মাসিক ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস-এমএমআই’র জুন-জুলাই এডিশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।
ড. আখতার হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যা স্বস্তিদায়ক নয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব এটি ৩-৪ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য কঠোর আর্থিক নীতি অব্যাহত থাকবে। শুধু কমিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে এটিকে স্থিতিশীল রাখতে একটি রুল-বেইজড মনিটরি পলিসি প্রণয়ন করা হবে। এর লক্ষ্য হবে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ৩-৪ শতাংশের কাছাকাছি ধরে রাখা। এই লক্ষ্য অর্জনে সুদহার নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রানীতিতে শৃঙ্খলা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের নীতিগত উপকরণ প্রয়োগ করা হবে।
একইসঙ্গে তিনি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, স্থানীয় সঞ্চয় দিয়ে বড় বিনিয়োগ সম্ভব নয়, তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা জরুরি। বিদেশি কোম্পানির জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের চ্যালেঞ্জ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ, লজিস্টিকস এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো গভীর সমস্যাগুলো সমাধান ছাড়া নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হবে। শুধুমাত্র কঠোর মুদ্রানীতিকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ নয়। ‘তথ্য-উপাত্ত বলছে, আর্থিক নীতির পাশাপাশি বাস্তব অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান না করলে বাংলাদেশ বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে উদ্দীপ্ত করতে পারবে না এবং প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে পারবে না।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পিআরআই’র পরিচালক ড. আহমদ আহসান এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (অর্থনৈতিক) জোশুয়া গাকুটান। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পার্থিব), এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুল্লাহ এন. করিম। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা মুদ্রানীতি, মুদ্রাস্ফীতি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ড. খুরশিদ আলম।




