লন্ডনে দায়িত্ব পালনকালে শরণার্থীর হামলার শিকার হয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের লন্ডন ফ্লাইটের ফ্লাইট পার্সার তৈফুর রহমান খান। মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, হেস্টন হাইড হোটেলে অবস্থানকালে হোটেলের কক্ষ থেকে বের হয়ে সামনের চেয়ার এ বসেছিলেন তৈফুর। তখন পেছন থেকে একজন নেশাগ্রস্ত শরণার্থী মোটা লাঠি দিয়ে তাঁর উপর হামলা চালান। তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরে পেটে ঘুষি ও লাথি মারেন। হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে বড় ধরনের অপমৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। খবর পেয়ে লন্ডন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী শরণার্থীকে আটক করে এবং মামলা রেকর্ড করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তৈফুরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে বিমান কর্তৃপক্ষকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন, তবে পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুদের অভিযোগ, হেস্টন হাইড হোটেলের পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর। হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ শরণার্থীদের দখলে আছে। সেখানে গাঁজা সেবন, তাস খেলা, মদ্যপান, গভীর রাতে হট্টগোল, নিম্নমানের হাউসকিপিং এবং কক্ষের ভেতরে তেলাপোকার উপদ্রব—সব মিলিয়ে পরিবেশ ক্রুদের জন্য অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হোটেল রিভিউ এবং অতিথিদের অভিমতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। অনেকের মতে, হোটেলটি এখন “শরণার্থী হাউস” হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সাধারণ অতিথিদের জন্য পরিষেবা মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তার কারণে ভবিষ্যতে ক্রুদের জন্য হোটেল পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে শরণার্থী হোটেলের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হোটেলের ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মনীতি পুনর্মূল্যায়ন করা এবং এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিরীক্ষণ ও মানপরীক্ষার ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা।




