আজ পবিত্র শুক্রবার। সপ্তাহের এ দিনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলো ইসলাম ও জীবন নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছে। পাঠকদের সামনে হাজির করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা থেকে শুরু করে মানবসেবা, সমাজ-সভ্যতা, রাজনীতি, শিশু ও পরিবার, এমনকি বিজ্ঞান-মননেও ইসলামের অনন্য দিকনির্দেশনা। আজকের ইসলাম পাতা ঘিরে পত্রিকাগুলোর উল্লেখযোগ্য শিরোনাম ও বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্তসার নিচে দেওয়া হলো—
আজকের পত্রিকার ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— অভুক্তের ক্ষুধা ও বিপদগ্রস্তের সংকটে মুমিনের করণীয়
এই নশ্বর পৃথিবীতে আমাদের জীবন সুখের ভেলায় ভাসলেও হয়তো অদূরেই কোনো এক মানবসন্তান ক্ষুধায় কাতর বা গভীর কোনো বিপদে অসহায়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আমরা হয়তো তাদের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনতে পাই না, কিন্তু তাদের হৃদয়ের কান্না ও প্রয়োজন আকাশ ছুঁয়ে যায়। একজন মুমিন হিসেবে আমাদের মনে রাখা জরুরি, জীবন একটাই এবং এই জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রাপ্তিগুলো প্রকৃত সফলতা নয়। প্রকৃত সফলতা নিহিত আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও ভালোবাসায়। যদি আমরা দয়াময় আল্লাহর দয়া পেতে চাই; তবে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে সেই আর্তি—ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া ও বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, অসহায়ত্বের চরম মুহূর্তে অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া ইবাদতের শ্রেষ্ঠতম কাজ।
ইসলামে মানবসেবা শুধু মানবিক কর্তব্য নয়, বরং তা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মহানবী (সা.)-কে যখন প্রশ্ন করা হলো, ইসলামে কোন কাজটি শ্রেষ্ঠ? তিনি উত্তর দিলেন, ‘ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো।’ (সহিহ বুখারি: ১২)
কালের কণ্ঠের ইসলামী জীবন পাতার প্রধান শিরোনাম— বাড়ি নির্মাণ ও গৃহসজ্জায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ
ঘর বা আবাস বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার জীবনকে নিরাপদ ও স্বস্তিকর করেছেন। প্রতিটি কাজের মতো ঘর নির্মাণেও নবীজি (সা.)-এর জীবনে আছে মুমিনদের জন্য উত্তম আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘর নির্মাণে মুমিনদের পরিমিতি বোধ শিক্ষা দিয়েছেন।
দৈনিক কালবেলার ইসলামের বেলার প্রধান শিরোনাম— স্মরণীয় মুসলিম মনীষী : কুতুবউদ্দিন আল-শিরাজি
কুতুবউদ্দিন মাহমুদ ইবন মাসউদ আল-শিরাজি ছিলেন মধ্যযুগের একজন দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ, চিকিৎসক, গণিতবিদ ও সুফি। তিনি ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে (৬৩৪ হিজরি) পারস্যের শিরাজনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের সময় ইসলামী বিশ্বে বিজ্ঞান ও দর্শনের স্বর্ণযুগ চলছিল এবং ইবনে সিনা, ইবনে হাইসম ও নাসিরউদ্দিন আত-তুসির মতো মনীষীদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল জ্ঞানের নানা শাখায়।
কুতুবউদ্দিনের বাবা ছিলেন একজন দক্ষ চিকিৎসক, যিনি স্থানীয় রাজসভায় চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার কাছেই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান শিখতে শুরু করেন। পরে তিনি শিরাজের বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, ইসলামী দর্শন (কালাম), এবং গণিত অধ্যয়ন করেন। তরুণ বয়সে তিনি চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করে চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পান।
আমার দেশের ইসলাম ও জীবন পাতার প্রধান শিরোনাম— শিশুর কলরব মসজিদের শোভা
বাংলাদেশের বহু মসজিদে দেখা যায়, অভিভাবকরা ছোট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে নামাজে আসেন। কিন্তু এ সময় অনেক শিশু দৌড়ঝাঁপ ও চিৎকার করে কিংবা নামাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে মুসল্লিদের মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি হয়, কেউ কেউ শিশুদের প্রতিই উঁচু আওয়াজ করে ফেলেন। অথচ ইসলাম শিশুদের মসজিদে আনার ব্যাপারে ভিন্ন শিক্ষা দিয়েছে। কোরআন ও হাদিসে শিশুদের মসজিদের সঙ্গে পরিচিত করানো এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের একাধিক উদাহরণ রয়েছে।
দৈনিক সময়ের আলোর ইসলাম আলোর প্রধান শিরোনাম— কুরআন থেকে জীবনের আলো
মানবজাতির হেদায়েতের জন্য সবশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে এ কুরআন। যারা এ কুরআন তেলাওয়াত করে, এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, কুরআন থেকে হেদায়েত গ্রহণ করে, কুরআন শিক্ষা দেয় এবং পারস্পরিক কুরআনের চর্চা করে আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যন্ত খুশি হন। তাদের ওপর বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন, তাদের অন্তরে প্রশান্তি ঢেলে দেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে থাকেন। সর্বদা তাদের ওপর আল্লাহর রহমত আচ্ছাদিত করে রাখে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর ঘরে একত্র হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে এবং পারস্পরিক কুরআনের চর্চা করে, তাদের প্রতি ‘সাকিনা’ তথা এক ধরনের বিশেষ প্রশান্তি বর্ষিত হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে নেয় এবং আল্লাহ তাঁর কাছের ফেরেশতাদের মাঝে তাদের আলোচনা করেন’ (মুসলিম : ২৬৯৯)।
খবরের কাগজের ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— সফল রাষ্ট্রনায়ক রাসুলুল্লাহ (সা.)
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যাতে মানুষের জীবনের প্রতিটি দিক অন্তর্ভুক্ত। তবে, রাষ্ট্র ও রাজনীতির সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে মুসলিমবিশ্বে দীর্ঘকাল ধরে মতপার্থক্য বিদ্যমান। এই মতপার্থক্য কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং এর প্রায়োগিক দিকও আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর গঠন ও চরিত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
আল্লাহ বলেছেন, ‘তুমি কি সেই লোকেদের প্রতি লক্ষ্য করনি, যারা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের এবং তোমার আগে অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান এনেছে বলে দাবি করে, কিন্তু তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, অথচ তাকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে বহুদূরে নিয়ে যেতে চায়।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৬০)
এ আয়াতে উল্লিখিত ‘তাগুত’ শব্দটি ‘সীমা লঙ্ঘন’ বা ‘সীমা অতিক্রম করা’বিষয়ক মূল আরবি থেকে উদ্ভূত। কোরআনে তাগুতকে শয়তান, মূর্তি, প্রতিমা এবং মিথ্যা মতবাদের উপাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলো, সেই ব্যক্তি বা ব্যবস্থা, যা আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করে অথবা আল্লাহর আইনের বিপরীতে নিজস্ব আইন দিয়ে বিচার-ফয়সালা করে বা জীবন পরিচালনায় বাধ্য করে।
দৈনিক দেশ রূপান্তরের দৈনন্দিন ইসলামের প্রধান শিরোনাম— পরিমিত হাসাও ইবাদত
চেহারার অলঙ্কার হাসি। হাসি মানুষের অন্তরের সৌন্দর্য ও প্রশান্তির প্রতিফলন। হাসি অনেক সময় গভীর দুঃখ-কষ্টকে হালকা করে তোলে, মনের অশান্তি দূর করে, হৃদয়কে প্রফুল্ল করে। গবেষণায় প্রমাণিত, পরিমিত হাসি দেহ-মনের জন্য উপকারী এবং মানুষের মানসিক চাপ কমাতে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি সভ্য সমাজেই হাসি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। আর সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক কথা হলো, পরিমিত ও মুচকি হাসাও ইবাদদের অন্তর্ভুক্ত।




