ময়মনসিংহের ত্রিশালে মা-বাবাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে মাটি চাপা দেয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে মো. রিয়াদ হাসান রাজুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে ত্রিশাল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের বাশকুড়ি গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ পায়।
নিহতরা হলেন- পিতা মোহাম্মদ আলী (৭০) এবং মা রানোয়ারা বেগম (৬০)। এনিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে ব্যবসার টাকার জন্য ছেলেটি তার বাবা মাকে চাপ দিচ্ছিল। বিবাহিত ও ১ সন্তানের জনক রাজু বেকার জীবনে খুব অসুখী ছিল বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
এ ঘটনার খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিহতদের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
থানা পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার, ৮ অক্টোবর দিনের বেলায় মা রানোয়ারা বেগমকে গলা টিপে হত্যা করে ঘরে লাশ লুকিয়ে রাখে ছেলে রিয়াদ হাসান রাজু। এরপর সন্ধ্যায় বাবা মোহাম্মদ আলী বাড়ির বাইরে থেকে ঘরে আসলে তাকেও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে বাবা ও মা’র লাশ পুঁতে রাখে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে বোনদের খবর দেয় বাবা-মাকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে।
এ ঘটনার খবরে বৃহস্পতিবার সকালে বোন জরিনা খাতুন স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসলে ভাই রাজুর কর্মকাণ্ডে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ঘরের ভেতরের মেঝের মাটি খোঁড়া এবং রক্তের দাগ দেখে বোন জরিনা ঘটনাটি প্রতিবেশীদের জানায়। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবেশীরা ছেলে রাজুকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
ত্রিশাল থানার ওসি মো. মনসুর আহম্মেদ বলেন, ‘ঘাতক ছেলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে- তার মনে শান্তি নাই। বিগত কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছে, স্ত্রী ছাড়াও তার একটি মেয়ে সন্তান আছে। আগে সে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতো। কিন্তু বর্তমানে তার কোন কর্ম নেই। তাই কিছুদিন ধরে সে ব্যবসার জন্য বাবা-মা’র কাছে টাকা চাইছিল। কিন্তু বাবা-মা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সে রাগে ক্ষোভে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’




