মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ছোট ধামাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া মাহমুদের ‘নিখোঁজ’ রহস্যের নাটকীয় অবসান ঘটেছে। তবে তাঁর ফিরে আসার পর পুলিশের দাবি এবং জনমনে সৃষ্ট প্রশ্ন এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে পুলিশ বিষয়টিকে ‘নিজে নিজেই আত্মগোপন’ বললেও, অন্যদিকে শিক্ষক জাকারিয়ার সমর্থকদের দাবি—এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অপহরণের চেষ্টা
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাসার সামনে থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন জাকারিয়া মাহমুদ। ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় এবং একটি ছেঁড়া পাঞ্জাবি পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় চেয়ারম্যান রুহেল উদ্দিনসহ বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করলেও নিখোঁজের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটন করতে পারেনি।
নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার হওয়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় পুলিশ। কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষক জাকারিয়া মাহমুদ অপহৃত হননি; বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই দাবি করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নামে এক ফেসবুক ব্যাবহারকারী লিখেছেন,”সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলার জন্য উনার জুড়ীবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
“এমনকি প্রত্যক্ষদর্শী শিবির নেতা তারেকও পরে উনাকে ‘প্রতারক’ ও ‘বাটপার’ বলে আখ্যা দেন।
তারেকের পুরো মন্তব্য নিম্নরূপ:
জাকারিয়া স্যারের সঙ্গে আজকে আমার ছবি তোলা হয়েছে। আমি হঠাৎ পানসী রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে দেখি, তিনি তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জুড়ী থানার দুইজন পুলিশ সদস্যসহ উপস্থিত ছিলেন। ওনার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বাড়ির সামনে থেকে কয়েকজন লোক উনাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর উনাকে কী খাওয়ানো হয়েছে, তা তিনি আর বলতে পারেননি।
তিনি বললেন—তাকে একটি চা বাগানে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে অপহরণকারীদের মধ্যে একজন উনাকে হত্যা করতে নিষেধ করে। এরপর দুপুরে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে উনাকে রেখে তারা চলে যায়। তিনি বলেন, উনার সন্তান ও মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন, না হলে ওনাকে মেরেই ফেলা হতো।
এরকম প্রতারক তা আমার জানা ছিল না। স্টেশনে নামার কিছুক্ষণ পর তিনি একজনের সহযোগিতায় ইউপি চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন ভাইকে কল দিলে, রুয়েল ভাই, জুড়ী থানার এসআই জনাব নাসির উদ্দিন ভাই ও একজন কনস্টেবলসহ পরিবারের লোকজন গিয়ে ওনাকে উদ্ধার করেন।
এত বড় প্রতারক! দেখেন, এই বাটপারগুলো মানুষের কথা একবারও চিন্তা করে না। মানুষের আবেগ নিয়ে এরকম না করলেও পারতেন।
(মূল কমেন্ট থেকে বানান সংশোধিত)
কেউ কেউ মনে করছেন— জাকারিয়া মাহমুদেরও কোন গোপনীয়তা থাকতে পারে যা তিনি প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। তাদের মতে সম্ভাব্য অপহরণকারী ও জাকারিয়া মাহমুদের কোন অভিসার আছে।
শিক্ষক জাকারিয়া মাহমুদের ‘নিখোঁজ’ রহস্য কি সত্যিই কোনো অপহরণের চেষ্টা ছিল, নাকি কোনো ব্যক্তিগত কারণে নাটকীয় আত্মগোপন—তা নিয়ে জুড়ীজুড়ে এখন আলোচনার ঝড় উঠছে।




