দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া, যিনি ‘রিপন ভিডিও’ নামেই বেশি পরিচিত, সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন পারিবারিক এক বিতর্কে।
নেত্রকোণা সদরের দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের এই তরুণ দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিজ্ঞাপন, সিনেমার প্রচারণাসহ নানা কাজেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রিপন মিয়ার মা অভিযোগ করেন—ছেলে তাদের ভরণপোষণ দেন না। সংবাদটি প্রচারের পর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রিপন মিয়ার পুরোনো বক্তব্য আর বর্তমান অভিযোগ নিয়ে শুরু হয় ট্রল ও নানা মন্তব্য।
কিন্তু এলাকাবাসী জানালেন ভিন্ন তথ্য। তাদের ভাষ্য, রিপন মিয়া নিয়মিত ভরণপোষণ দিতে চাইলেও তার মা-বাবা তা গ্রহণ করেন না। বরং অনেক আগেই তারা রিপনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর রিপন রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে নিজের উপার্জনে সামান্য জমি কিনে সেখানে একটি পাকা ঘর তৈরি করেন।
‘ট্যুডে সি নিউজ’ নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও সাক্ষাৎকারে স্থানীয়রা বলেন, রিপন মিয়া পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। রাজমিস্ত্রির কাজ করে ধীরে ধীরে উঠে এসেছেন তিনি। তাদের দাবি, জনপ্রিয় হওয়ার আগেই পারিবারিক কারণে মা-বাবা তাকে ত্যাগ করেন।
রিপন মিয়ার চাচাতো বোন পরিচয় দেওয়া এক নারীও জানান, ছোটবেলা থেকেই রিপনকে আশ্রয় দেননি তার মা-বাবা। শুধু রিপন নয়, তিন ভাইকেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। “ও কিছু দিতে চাইলেও তারা নেয় না,” বলেন ওই নারী।
তবে টেলিভিশন প্রতিবেদনে রিপন মিয়াকে তার স্ত্রী-সন্তানকে অস্বীকার করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ওই নারী বলেন, “সম্ভবত ভাইরাল হওয়ার জন্যই এমনটা বলেছে।”
প্রতিবেশী মরিয়ম বলেন, “জনপ্রিয় হওয়ার আগে রিপন কাজ করতেন না। তখনই মা-বাবা তাকে বের করে দেন। তবে এখন স্ত্রী-সন্তানকে অস্বীকার করা তার ঠিক হয়নি।”
অন্যদিকে রিপন মিয়ার বাবা প্রথমে দাবি করেন, ছেলে তাদের ভরণপোষণ দেন না। কিন্তু পরের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তিন ছেলে যে যতটুকু পারে, সাহায্য করে। আমি নিজেও কিছু আয় করি, তাতেই সংসার চলে।”
সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন রিপন মিয়া। কেউ সমালোচনা করছেন, কেউবা বলছেন—‘যার মা-বাবাই সহায়তা নিতে চান না, তার বিরুদ্ধে এমন প্রচার অন্যায়।’




