ষাটের দশকের কবি নূর-ই-সাত্তার আর নেই। আজীবন সাহিত্যচর্চা ও সমাজচিন্তায় নিবেদিত এই কবি বুধবার (১৫ অক্টোবর) নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
নূর-ই-সাত্তার কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা, জীবনীগ্রন্থ, কাব্যনাট্য ও গীতিকবিতা—সব ক্ষেত্রেই রেখেছেন স্বাক্ষর। ষাটের দশকের উত্তাল সময়ে তাঁর কাব্যভুবনে পদার্পণ, পরে হয়ে উঠেছিলেন সাহিত্যপ্রেমীদের প্রেরণার নাম।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম সুনামগঞ্জের কুবাজপুর দারুল উলুম মাদরাসা মাঠে আনা হয়, যেখানে তিনি একসময় শিক্ষকতা করতেন। সেখানে জানাজার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় তাঁর জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন মাদরাসার নির্বাহী মুহতামীম মাওলানা গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, “কবি নূর-ই-সাত্তার ছিলেন কোমল হৃদয়ের মানুষ। মাদরাসার উন্নয়নে তিনি আজীবন সহায়তা করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

জানাজার আগে কবির স্মৃতিচারণ করেন অরুণোদয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আখলাকুর রহমান, সিলেট ক্যামব্রিজ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জিল্লুর রহমান, জালালাবাদ গ্যাসের সাবেক কর্মকর্তা আলহাজ উস্তার আলী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ও রওজাতুল কুরআন মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা আজীর উদ্দীনসহ অনেকে। তাঁরা বলেন, “কবি নূর-ই-সাত্তার তাঁর লেখার মধ্য দিয়েই অগণিত পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তাঁর অপ্রকাশিত লেখাগুলোই হবে আগামী প্রজন্মের সম্পদ।”
পরে জোহরের নামাজের পর মাদরাসা মাঠে কবির জানাজা পড়ান তাঁর জামাতা মুফতি জুবায়ের আহমদ। জানাজা শেষে কবিকে কুবাজপুর দক্ষিণ পাড়া কবরস্থানে, পুত্র আল-মাহমুদের পাশে দাফন করা হয়।
কবি নূর-ই-সাত্তারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।





